অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার : সাংবাদিক জীবন কৃষ্ণ দেবনাথ

No description available.

দৈনিক আজকালের দর্পন ডেস্ক : ঈদুল আজহার পরই উন্মুক্ত করা হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকত ও সেখানকার পর্যটন স্পট, হোটেল মোটেল রিপোর্ট, রেস্তোরা, বার্মিজ দোকানসমূহ। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে আগত পর্যটকসহ পর্যটন ব্যবসায়ীদের মানতে হবে ৬৫ নির্দেশনা ও শর্তাবলী।

No description available.

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ার জন্য প্রথম পর্যায়ে এসব নির্দেশনা ও শর্তাবলী খসড়া চূড়ান্ত করেছে কমিটি। আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

মো. কামাল হোসেন বলেন, ঈদুল আজহার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-মোটেল ও সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাNo description available.প্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কিছু সুপারিশমালা তৈরি করেছে। আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রশাসনের এক সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে হোটেল-মোটেল ও সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান জাহিদ খান পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতামতের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে কিছুসংখ্যক নির্দেশনা ও শর্তাবলী প্রণয়ন করেছেন। মূলত আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রশাসনের সভায় এসব নির্দেশনা ও শর্তাবলী চূড়ান্ত হবে। আর এসব মানার ও পালনের শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হবে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

এ নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রাথমিকভাবে তৈরি সেক্টর ভিত্তিক বিভাজিত ১১টি সেক্টরে ৬৫টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী আরোপ করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ-রেস্ট হাউজ, কটেজ ও রিসোর্টের জন্য ১৫টি, রেস্টুরেন্ট ও রেস্তোরার জন্য ৭টি, গণপরিবহনের জন্য ৮টি, বিচ মার্কেট ও সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৪টি, বিচ-বাইক ও জেটস্কীর জন্য ৪টি, কিটকট ব্যবসায়ীদের জন্য ৬টি প্যারাসেলিংয়ের জন্য ২টি,  বিভিন্ন পর্যটন স্পটের (আদিনাথ মন্দির ও রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড প্রভৃতি) ৪টি, ঘাট ও স্পিডবোটের জন্য ৪টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী মেনে খুলে দেওয়ার নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ১২টি বিশেষ শর্তাবলী।

এদের মধ্যে হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ-রেস্ট হাউজ, কটেজ ও রিসোর্টের জন্য তৈরি ১৫টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী হল
১. প্রবেশমুখে হ্যান্ডওয়াশ ও পানির সুব্যবস্থার জন্য বেসিন সিস্টেম থাকতে হবে। ২. প্রবেশমুখে ডিসইনফেকশন ট্রে এর ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেই ট্রে জীবাণুনাশক হিসেবে যেন ব্লিচিং পাউডার-পানির মিশ্রণ নিয়মিতভাবে দেয়া হয় তা সুনিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে হোটেলে পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডারের মজুদ রাখতে হবে। ৩. প্রবেশমুখে প্রবেশকারীদের তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোন পর্যটকের শরীরে তাপমাত্রা বেশী হলে কিংবা করোনার অন্য যে কোন উপসর্গ পরিলক্ষিত হলে তাকে হোটেলে উঠতে না দিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. যেসব হোটেলে গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা আছে সেগুলোতে গাড়িকে ব্লিচিং বা অন্য কোনো জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৫. হোটেলের প্রবেশমুখ, লবিসহ বিভিন্ন স্থানে এবং সকল রুমে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৬. হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে বেড সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, প্রতি কক্ষে সর্বোচ্চ একজন পর্যটক থাকতে পারবে। তবে স্বামী-স্ত্রী এর ক্ষেত্রে এবং নাবালক বাচ্চা থাকলে তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য। ৭. হোটেলে পর্যটক আসার পর তারা যেন গোসল করে সে পরামর্শ দিতে হবে এবং গোসল না হোটেল থেকে বের হয়ে হয়ে বিচে বা অন্য কোথাও ঘোরাঘুরি না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৮. মাস্কবিহীন অবস্থায় কোন পর্যটক যেন হোটেল অভ্যন্তরে ঘোরাঘুরি না করে কিংবা হোটেল থেকে বের না হয়; সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কক্সবাজারে চলমান ‘ নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ সম্পর্কে পর্যটকদের অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে হোটেলগুলো পর্যটকদের জন্য মাস্ক সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। ৯. কোন পর্যটক কোন রুম ত্যাগ করার পর, নূন্যতম একদিন পর তা অন্য পর্যটকদের ভাড়া দিতে হবে। এ সময়ে পূর্বের পর্যটকের ব্যবহৃত সকল বেডশিট, বালিশের কভার প্রভৃতি ধৌত করার উদ্দ্যেশে পরিবর্তন করে দিতে হবে এবং রুমের ব্যবহার্য আসবাবপত্র, দরজা, জানালা, ফ্লোর ভালোভাবে জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। ১০. হোটেলের সকল কর্মচারী অবশ্যই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকবে এবং তা অবশ্যই সঠিকভাবে পরতে হবে যেন নাক বা মুখ বের হয়ে না থাকে।

১১. স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে হোটেলের কী করণীয় এবং করণীয় এবং পর্যটকদের কী পালনীয় তা হোটেলের বিভিন্ন দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। ১২.  করোনাকে পুঁজি করে কোন হোটেল যেন রুম ভাড়ায় অনিয়ম করে দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন ব্যবসায় কক্সবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে না পারে, তাই রুমের ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে  হবে। ১৩. স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য ব্যাপারে হোটেলের কোন কর্মচারী কোন অবহেলা করছে কিনা তা জানানোর জন্য জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের কোন কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর অভিযোগের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে এবং যে  কোন অভিযোগ সমাধানে সে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। হোটেল কর্তৃপক্ষ যদি কোন অভিযোগ আমলে না নেয় বা সমাধানে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাকে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পর্যটকদের কোন অনিয়ম/অভিযোগ আছে কিনা তা জানানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হটলাইন নাম্বারও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৪. প্রতি সপ্তাহ অন্তর হোটেলের কর্মচারীরা কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছে কিনা সেটার পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং কেউ আক্রান্ত পাওয়া গেলে দ্রুত তাকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৫. জিমনেসিয়াম ও স্পা সুবিধা পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে।

রেস্টুরেন্ট ও রেস্তোরার জন্য ৭টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী
১. প্রবেশমুখে সাবান ও পানির সুব্যবস্থার জন্য বেসিন সিস্টেম থাকতে হবে। ২. প্রবেশমুখে ডিসইনফেকশন ট্রে এর ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেই ট্রে জীবাণুনাশক হিসেবে যেন ব্লিচিং পাউডার-পানির মিশ্রণ নিয়মিতভাবে দেয়া হয় তা সুনিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে হোটেলে পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার এর মজুদ রাখতে হবে। ৩. প্রবেশমুখে প্রবেশকারীদের তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৪. যেসব রেস্টুরেন্টের গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলোতে গাড়ীকে ব্লিচিং বা অন্য কোন জীবাণুনাশক দ্বারা পরিস্কার করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৫. রেস্টুরেন্টের সকল কর্মচারী অবশ্যই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকবে এবং তা অবশ্যই সঠিকভাবে পরতে হবে যেন নাক বা মুখ বের হয়ে না থাকে। ৬. রেস্টুরেন্টগুলো হোম ডেলিভারি সার্ভিস দিতে উৎসাহিত করবে। ৭. রেস্টুরেন্টে চেয়ার-টেবিলগুলো পর্যাপ্ত দুরুত্বে থাকবে এবং একই টেবিলে একই গ্রুপে ( একই পরিবার বা দল যারা একসাথে বসবাস করে ) সদস্যরা বসতে পারবে।

গণপরিবহণের ৮টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী
১. কক্সবাজারগামী বাসে একই পরিবারের সদস্য নয় এমন ২ যাত্রীকে পাশাপাশি সিটে বসানো যাবে না। ২. বাসের দরজায় কক্সবাজারগামী যাত্রীদের তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোন যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা বেশী হলে কিংবা করোনার অন্য কোন উপসর্গ পরিলক্ষিত হলে, তাকে বাসে উঠতে দেয়া যাবে না। ৩. স্থানীয় গণপরিবহনে ( রিক্সা, অটোরিক্সা, সিএনজি প্রভৃতি) একই সাথে লোকাল লোক এবং পর্যটক পরিবহন করা যাবে না। ৪. অটোরিক্সা, সিএনজি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যানবাহন কোন অবস্থাতেই ড্রাইভারের পাশে কোন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। ৫. অটোরিক্সার পেছনে সর্বোচ্চ ৩ জন এবং সিএনজির পেছনে সর্বোচ্চ ২ জন যাত্রী বসতে পারবে। একই গ্রুপের ( একই পরিবার বা দল যারা একসাথে বসবাস করে ) সদস্যদের জন্য এ নিয়ম শিথিলযোগ্য। ৬. সকল চালক এবং হেলপার অবশ্যই সঠিকভাবে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকবে  এবং তা অবশ্যই সঠিকভাবে পরতে হবে যেন নাক বা মুখ বের হয়ে না থাকে। ৭. মাস্কবিহীন কাউকে সার্ভিস দেয়া যাবে না। ৮. রেন্ট এ কার থেকে গাড়ী ভাড়া নিলে তা অপরিচিত কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না।

বিচ মার্কেট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৪টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী হল
১. বিচের নিকটবর্তী পর্যটন সংশ্লিস্ট কিছু কিছু মার্কেট দোকানগুলো এত সন্নিকটে যে সেখানে সব দোকান এক সাথে খোলা থাকলে দূরত্ব বজায় রাখা দূরুহ হবে। সেক্ষেত্রে পাশাপাশি ২ টি দোকান একই দিনে খোলা না রাখা যেতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে একদিন একটি খোলা রাখলে পাশের অন্যটি রাখা যেতে পারে। পরেরদিন বন্ধ রাখা দোকানটি খোলা রাখা যেতে পারে। ২. মার্কেটের সকল কর্মচারী অবশ্যই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকবে এবং তা অবশ্যই সঠিকভাবে পরতে হবে যেন নাক বা মুখ বের হয়ে না থাকে। ৩. বিক্রয়ের সময় পর্যটকদের বিভিন্ন পণ্য হাতে ধরে দেখাকে অনুৎসাহী করতে হবে এবং হাতে ধরে যদি দেখেই থাকে; তবে তা প্রয়োজনে স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করবে। ৪. মাস্কবিহীন কাউকে সার্ভিস দেয়া যাবে না।

বিচ-বাইক ও জেটস্কীর জন্য ৪টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী
১. বিচ-বাইক চালককে অবশ্যই মাস্ক, পিপিই পরিহিত অবস্থায় যাত্রী বহন করতে হবে। ২. একসাথে একজনের বেশী যাত্রী উঠানো যাবে না। ৩. একজন যাত্রী চড়া শেষে বাইকে ব্লিচিং পানি বা অন্য কোন জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। ৪. মাস্কবিহীন কোন সার্ভিস দেয়া যাবে না।

কিটকটের ক্ষেত্রে ৬টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী
১. কিটকটগুলো একটি থেকে অপরটির নূন্যতম ৩ ফিট দূরত্বে থাকবে। ২. কোন কিটকটে একের অধিক ব্যক্তি সবতে পারবে না। ৩. প্রতিবার কিটকট কেউ ব্যবহার শেষে তা ব্লিচিং পানি বা অন্য কোন জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। ৪. কিটকটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি অবশ্যই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকবে এবং তা অবশ্যই সঠিকভাবে পরতে হবে যেন নাক বা মুখ বের হয়ে না থাকে। ৫. স্থানীয় ও পর্যটকদের জন্য পৃথক কিটকটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৬. মাস্কবিহীন কাউকে সার্ভিস দেয়া যাবে না।

প্যারাসেইলিং এর জন্য ২টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী
১. সংশ্লিষ্ট সকলকে অবশ্যই মাস্ক, পিপিই পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ২. মাস্কবিহীন কাউকে সার্ভিস দেয়া যাবে না।

বিভিন্ন পর্যটন স্পট ( আদিনাথ মন্দির ও রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড প্রভৃতি ) এর ক্ষেত্রে ৪ টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী

১. সপ্তাহের কিছুদিন স্থানীয় লোকদের জন্য এবং কিছুদিন পর্যটকদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। একই দিনে পর্যটক ও স্থানীয়রা পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণ করতে পারবে না। ২. এসব পর্যটন স্পটে কোনভাবেই যেন মাত্রাতিরিক্ত ভিড় যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. দায়িত্বে থাকা সকল কর্মচারী অবশ্যই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকবে এবং তা অবশ্যই সঠিকভাবে পরতে হবে যেন নাক বা মুখ বের হয়ে না থাকে। ৪. মাস্কবিহীন কাউকে সার্ভিস দেয়া যাবে না।
ঘাট ও স্পিডবোটের জন্য ৪টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী হল: ১. ঘাটের দায়িত্বে থাকা সকল কর্মচারী এবং সকল স্পিডবোট চালক অবশ্যই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকবে এবং তা অবশ্যই সঠিকভাবে পরতে হবে যেন নাক বা মুখ বের হয়ে না থাকে। ২. একই স্পিডবোটে একই সাথে স্থানীয় লোক ও পর্যটক উঠানো যাবে না। ৩. একটি স্পিডবোটে সর্বোচ্চ ৪ জন যাত্রী উঠানো যাবে। ৪. মাস্কবিহীন কাউকে সার্ভিস দেয়া যাবে না।

এছাড়া কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য ১২টি নির্দেশনা ও শর্তাবলী
১. কক্সবাজারে আসার পথে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধির যেন কোন ব্যতয় না হয়, সেই দিকে সর্তক থাকতে হবে। অসুস্থ (জ্বর ও সর্দিসহ অন্য উপসর্গ প্রভৃতি) অবস্থায় কেউ কক্সবাজার ভ্রমণে আসতে পারবে না। ২. কক্সবাজার এসে হোটেল বা অন্য কোথাও উঠে প্রথমেই ভালোভাবে গোসল করে নিতে হবে; গোসল না করে এসেই ঘুরতে বের হওয়া যাবে না।৩. কক্সবাজারে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ অবস্থা চলমান। ফলে মাস্কবিহীন অবস্থায় ঘোরাঘুরি করা যাবে না। আর কেউ মাস্কবিহীন অবস্থায় ঘোরাঘুরি করলে সে কোন পাবলিক সেবা পাবে না, উপরন্তু জরিমানা গুনতে হবে। ৪. পর্যটন পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই (হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিচ সংলগ্ন মার্কেট, বিচের বিভিন্ন সার্ভিস) স্বাস্থ্যবিধির কিছু নীতিমালা রয়েছে, সেগুলো সকল ক্ষেত্রে মানতে হবে এবং অপরপক্ষকেও সেগুলো প্রতিপালনে সহায়তা করতে হবে। ৫. যথাসম্ভব রেস্টুরেন্ট/রেস্তোরায় বসে খাওয়া পরিহার করতে হবে, খাবার অর্ডার দিয়ে রুমে নিয়ে এসে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ৬. পর্যটকদের যাতায়াত হোটেল, বিচ এবং এসব এরিয়ার কাছাকাছি দোকানসমূহে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বাজার কিংবা কোলাহলপূর্ণ অন্যান্য স্থানে যাতায়াতকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হচ্ছে। ৭. পর্যটকদের নামায/প্রার্থনা রুমে বসে সম্পাদন করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। ৮. স্থানীয় অটোরিক্সা, সিএনজি, রিক্সা প্রভৃতি গণপরিবহনে এবং ঘাট থেকে স্পিডবোট চলাচলের ক্ষেত্রে অপরিচিত কারো সাথে একই যানবাহনে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৯. বিচে চলাচলের ক্ষেত্রে অপরিচিত কোন দলের কাছ থেকে ন্যূনতম ৩ ফিট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ১০. হোটেল-মোটেল জোন ও মেরিন ড্রাইভ এবং তৎসংলগ্ন বিচ এবং নিকটবর্তী পর্যটন স্পট ব্যতিরেকে অন্যান্য দূরবর্তী পর্যটন স্পটসমূহ ভ্রমণকে নিষিদ্ধ না করা হলেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ১১. অনলাইন প্লাটফর্ম (যেমন ফেইসবুক) এর মাধ্যমে অনেক সময় পরস্পর অপরিচিতরা দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ট্যুর আয়োজন করে, কক্সবাজারে এরূপ ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১২. বিচ, হোটেল-মোটেল বা অন্য কোথাও জনসমাবেশ ঘটিয়ে কোন সভা, সমাবেশ, কনসার্ট কিংবা জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী কিংবা অন্য যেকোনও অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান

Coxs-Bazar--new

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। ১২০ কি.মি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ সমুদ্র সৈকতের বৈশিষ্ট্য হলো পুরো সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময়, কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বালিয়াড়ি সৈকত সংলগ্ন শামুক-ঝিনুকসহ নানা প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল-মোটেল-কটেজ, নিত্য নবসাজে সজ্জ্বিত বার্মিজ মার্কেট সমূহে পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার শহরে পর্যটন মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্ম এমন কোনো ঋতু নেই যখন সমুদ্র সৈকতের চেহারা বদলায় না। প্রত্যুষে এক রকম তো মধ্যাহ্নে এর রূপ অন্য রকম।

 

Kolatoli-Beach2

কলাতলী বিচ

কলাতলী বিচ কক্সবাজারের আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র। এটা কক্সবাজারের মধ্যে অবস্থিত। বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন মানুষ এখানে ভ্রমণ করতে আসেন, সমুদ্রে গোসল করতে আসেন, আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কলাতলী বিচে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্টসহ আরো অনেক পর্যটন সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদনি রাতে বিচে হাঁটা সত্যিই রোমঞ্চকর সকল বয়সী মানুষের জন্যই। সকাল এবং সন্ধ্যাতে এখানে উপভোগের জন্য রয়েছে নানা ধরনের শুকনো মাছ, খাবার ইত্যাদি।

LABONI%20BEACH

লাবনী বিচ
বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত বললে প্রথমেই চোখে ভেসে ওঠে কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত কক্সবাজার পুরাতন সি-বিচ যা লাবণী পয়েন্ট বা পুরাতন সি-বিচ হিসেবেও পরিচিত। সমুদ্র দেখতে বাঙালি মাত্রই ছুটে যান কক্সবাজারের এই সি-বিচে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কক্সবাজারগামী বাসে করে কলাতলী সি-বিচ রোডে নেমে রিকশা অথবা পায়ে হাঁটা পথে যেতে পারবেন এই বিচ দুটোতে। কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী বিচকে কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ছোট বড় অনেক দোকান যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মার্কে

himchori-waterfall

হিমছড়ি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এ সমুদ্র সৈকতের নাম হিমছড়ি। এখানকার সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নির্জন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এর সৌন্দর্যও কোনো অংশে কম নয়। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিমছড়ি যত না সুন্দর তার চাইতে সুন্দর ও রোমাঞ্চকর হল কক্সবাজার থেকে এ সৈকতে যাওয়ার পথটি। একপাশে বিস্তৃর্ণ সমুদ্রের বালুকা বেলা আর এক পাশে সবুজ পাহাড়ের সাড়ি। মাঝে পিচ ঢালা মেরিন ড্র্রাইভ। এমন দৃশ্য সম্ভবত দেশের আর কোথাও পাওয়া যাবে না। কেউ কক্সবাজার এলো অথচ এই পথ ধরে ছুটলো না তার পুরো ভ্রমনই মাটি। পাহাড়ে উঠলে চোখের সামনে ভাসবে নীল দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া বিশাল সমুদ্র।

inani

ইনানি বিচ

হিমছড়ি থেকে আরো ০৫ কিলোমিটার গেলেই ইনানী বীচ বা ইনানী সমুদ্র সৈকত। ইনানী বীচে প্রবাল পাথরের ছড়াছড়ি। অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতই। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মত এখানে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে না সৈকতের বেলাভূমিতে। অনেকটাই শান্ত প্রকৃতির সৈকত এই ইনানী। জোয়ারের সময় এলে প্রবাল পাথরের দেখা পাওয়া যাবে না। ভাটার সময়েই কেবল মাত্র বিশাল এলাকা জুড়ে ভেসে উঠে এই পাথর। প্রবাল পাথরে লেগে থাকে ধারালো শামুক-ঝিনুক। তাই এখানে বেশী লাফালাফি করা বিপদজনক। ইনানী সৈকতের প্রধান আকর্ষণ প্রবাল পাথর। প্রায় প্রতিটা পাথরই নানা আকার আর ধরণের।

Sonadia

সোনাদিয়া

সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার একটি সুন্দর দ্বীপ। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কি.মি.। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। একটি খাল দ্বারা এটি মহেশখালী দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি,কেয়া-নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন এবং বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। কক্সবাজারের বিপরীতে উপকূলীয় ছোট একটি দ্বীপ সোনাদিয়া। এটি পরিযায়ী পাখিদের স্বর্গ। মনোরম এ দ্বীপের পশ্চিমাংশে বালুকাময় ও ঝিনুকের জন্য বিখ্যাত। কক্সবাজার থেকে প্রায় ০৭ কিলোমিটার দূরে মহেশখালী উপজেলায় এর অবস্থান।

ramu

রামু

বৌদ্ধ কৃষ্টির জন্য বিখ্যাত কক্সবাজারের রামু থানা। কক্সবাজার থেকে ঢাকার পথে আসতে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রসিদ্ধ দর্শণীয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র স্থান। এখানে রয়েছে বৌদ্ধ মন্দির, প্যাগোডা, ধাতু ও ব্রোঞ্জের তৈরি বৌদ্ধ মূর্তি, ছোট-বড় ১৩টি বৌদ্ধ মূর্তি নিয়ে লাল সিং ও পাশে সাদা সিং নামের বৌদ্ধ বিহার। আরো আছে ১৩ ফুট উচু ব্রোঞ্জের বুদ্ধ মূর্তি যা পর্যটকদের ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। এছাড়া রাবার বাগান, স্থানীয় রাখাইন ও বড়–য়া সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে এই এলাকায়।

images

মহেশখালী

কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগরের মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপ মহেশখালী। মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ হিসেবে পরিচিত মহেশখালীতে রয়েছে হিন্দুদের তীর্থস্থান বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ মন্দির সারা বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র স্থান। প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো এ প্রাচীন সভ্যতা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। নেপালের রাজদরবারের বদান্যতায় ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় এটি নতুন রূপ ধারণ করেছে।

Aggmeda%20Khyang%20Monastery

আদিনাথ মন্দির
আদিনাথ মন্দির সমুদ্র স্তর থেকে ৮৫.৩ মিটার উচুঁ মৈনাক পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত। বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত মহেশখালী উপজেলার স্বাধীন গোরখঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রাম আদিনাথ মন্দির এর অবস্থান। এটি মূলত মহাদেব-এর মন্দির। জনশ্রুতি আছে, কোনো এক কৃষক এই দ্বীপের একটি বনের ভিতর মহেশ (হিন্দু পৌরাণিক দেবতা মহাদেব-এর অপর নাম)-এর মূর্তি পান। এরপর এই দেবতার নামে একটি মন্দির তৈরি করে, সেখানে ওই বিগ্রহটি স্থাপন করেন। পরে এই দেবতার নামের সাথে খালী (খাল অর্থে) শব্দ যুক্ত হয়ে-এই স্থানটি মহেশখালী নামে পরিচিত লাভ করে।

dula%20hazra

ডুলাহাজারা

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার জেলা সদরের দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকে অবস্থিত। মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সাফারি পার্কটি ৯০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। ডুলাহাজারা সাফারি পার্ককে কেউ কেউ সাফারি পার্ক বলতে রাজি নন, কারণ এখানে প্রাকৃতিক অবকাঠামোর বদলে অত্যাধুনিক ও কৃত্রিম অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে বেশি। আটটি ব্লকে ভাগ করে গড়ে তোলা এ পার্কে মুক্ত পরিবেশে হাঁটাচলা করা যায়, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনায়াসে বেড়ানো যায়।

teknaf

টেকনাফ

টেকনাফ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৮৬ কিলোমিটার। টেকনাফ উপজেলার পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে নাফ নদ;এই নাফ নদের থেকেই এই অঞ্চলটির নামকরণ হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার দর্শণীয় স্থানগুলোর মধ্যে শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, পৌরসভার কাছাকাছি থানা প্রাঙ্গণে মাথিনের কূপ, বাংলাদেশ-মায়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাট, টেকনাফ নেচার গেম রিজার্ভ, শিলখালী চিরহরিৎ গর্জনগাছ বাগান, মারিশবনিয়া সৈকত, কুদুমগুহা অন্যতম।

santmartin

সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ০৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ০৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। প্রচলিত আছে অনেক অনেক বছর আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এখানে দারুচিনি বোঝাই আরবের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ পানির নীচে থাকা একটি বিশাল পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেঙ্গে পড়ে, যার ফলে জাহাজে থাকা দারুচিনি এই দ্বীপের সবখানে ছড়িয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাম হয়ে যায় ‘দারুচিনির দ্বীপ’।

শর্টলিংকঃ