‘আমি বাঁচতে চাই, আবারও অভিনয় করতে চাই’

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে যাত্রাপালায় অভিনয় শুরু করেছিলেন সুলতান সেলিম। নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দীর্ঘদিন দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন। অংশ নিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধেও। যাত্রাশিল্পে অবদানের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক পেয়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে যাত্রাপালা মাতানো সেই নায়ক এখন অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগছেন সুলতান সেলিম। ডায়াবেটিসের কারণে ডান পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় ২০১১ সালে তাঁর ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়। পরে বাঁ পায়েও দেখা দেয় ক্ষত। সঙ্গে কিডনি, উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যাতেও ভুগছেন তিনি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত যাত্রাশিল্পী ও নির্দেশক অমলেন্দু বিশ্বাসের হাত ধরে যাত্রায় পদচারণা সুলতান সেলিমের। তাঁর যাত্রা জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে মানিকগঞ্জের গণেশ অপেরায়। যাত্রাশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য যাত্রাপালা সম্রাট ব্রজেন্দ্র কুমার দে স্মৃতিপদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পদক, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প পরিষদ উৎসব পদকসহ বিভিন্ন পদক পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত জাতীয় যাত্রা উৎসবে তিনি তৃতীয় শ্রেষ্ঠ অভিনেতা নির্বাচিত হন।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের অষ্টম তলার পাঁচ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন সুলতান সেলিম। গত সোমবার যখন হাসপাতালে কথা বলছিলেন, দুই চোখ বেয়ে অঝোরে জল ঝরছিল। আকুতিভরা কণ্ঠে বললেন, ‘আমি বাঁচতে চাই। আবারও যাত্রাপালায় অভিনয় করতে চাই।’

হাসপাতালে সুলতান সেলিম দেখাশোনা করছেন স্ত্রী রিক্তা সুলতানা। স্বামীর মতো যাত্রাশিল্পে অবদান আছে তাঁরও। ১৯৯৩ সালেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত জাতীয় যাত্রা উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নির্বাচিত হন। আর্থিক দুরবস্থার কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠটা একটু ধরে এল তাঁর। বললেন, ‘আমার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সে হিসেবে মাসে ১২ হাজার টাকা ভাতা পান। ওই টাকা দিয়েই এখন সংসার চলছে। স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমরা সহায়-সম্বলহীন। অসুস্থ স্বামীর উন্নত চিকিৎসা করানো দরকার। কিন্তু অত টাকা এখন আর নেই।’

সুলতান সেলিমের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সাকিনা আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তিনি ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর এক পা কেটে ফেলা হয়েছে। অন্য পায়েও মারাত্মক ক্ষত হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, যা এই হাসপাতালে সম্ভব নয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তোবারক হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সুলতান সেলিমের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। তবুও তাঁর চিকিৎসার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

স্বামীর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সহায়তা চেয়েছেন রিক্তা সুলতানা। এ ছাড়া সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদেরও পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। (সহায়তার জন্য বিকাশ নম্বর: ০১৭৪১৩৮৭৭৯৮। অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০০২০৯৮৬৭, সোনালী ব্যাংক, মানিকগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স শাখা)

 

সূত্রঃ প্রথম আলো।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।