ঈদের আগে-পরে ঘর থেকে বের হয়ে পথে আটকা পড়বেন না: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

দৈনিক আজকালের দর্পন ডেস্ক : সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সরকার স্থানান্তর বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঘর থেকে বের হয়ে পথে আটকা পড়বেন না। তখন দুদিক হারাবেন এবং ভোগান্তিতে পড়বেন। আজ বুধবার তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করুন। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে যারা ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা আবার অনুরোধ করছি, আপনার নিজ নিজ অবস্থানে থাকুন, ঘর থেকে বের হয়ে পথিমধ্যে আটকে পড়ার ঝুঁকি নেবেন না। তখন এদিক-ওদিক দু’দিকই হারাতে হবে।’ বুধবার (২০ মে) সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
পরশুরামে সাংবাদিক পরিবারসহ ৭ জন করোনায় আক্রান্ত
বার বার অনুরোধ করার শর্তেও যারা দলে দলে গ্রামমুখী হচ্ছেন এবং নানা কৌশলে স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন তাদের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার স্থানান্তর বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা আবার অনুরোধ করছি আপনার নিজ নিজ অবস্থানে থাকুন। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করুন, নিজেদের সহযোগিতা করুন। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আমাদের চেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুতে অনেক ভয়াবহ অবস্থানে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। পৃথিবীর কোনো দেশের সরকার এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে পারছে? খোদ যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থনীতির বাস্তবতায় দেশগুলো আজকে লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হচ্ছে। আন্দোলনে নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বৈশ্বিক সংকটকে পুঁজি করে রাজনীতির অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে বিএনপি। শেখ হাসিনার সরকার যখন সবেইকে নিয়ে সম্মিলিত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বিএনপি রাজনীতির প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।’ কাদের বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি এখনো দেশের অনেক শিল্পকারখানার মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেননি। শ্রমিকদের মাঝে বিক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসছে যা এ সংকটকালে অনাকাঙ্ক্ষিত।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ত্রাণ কার্যক্রমে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকার কঠোর অবস্থানে। অভিযুক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক, দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। দলীয় পরিচয় কাউকে রক্ষা করতে পারেনি। এবিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার শূন্য সহিষ্ণুতার পরিচয় দিচ্ছেন। জনগণ জানতে চায় কথামালার চাতুরি আর প্রেসব্রিফিং ছাড়া বিএনপি অসহায় মানুষের জন্য কি করতে পেরেছে? চৌকস কথার ফুলঝুরি আর গলাবাজি ছাড়া দেশ ও জাতিকে বিএনপি কি দিতে পেরেছে?’

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।