গোলাপ ঝরার দিন, দুঃসহ স্মৃতি জাগানিয়া দিন আজ

সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি

দৈনিক আজকালের দর্পন : আজ গোলাপ ঝরে পড়ার দিন। কিশোরগঞ্জবাসীর দুঃসহ বেদনার দিন। যে গোলাপের সৌরভে বাঙালি জাতি তথা কিশোরগঞ্জবাসী মহান মুক্তিযুদ্ধের টালমাটাল দিনগুলোতে আমোদিত হয়েছিল।

এ দিনটি উপলক্ষে সৈয়দ নজরুল ইসলামের বীর দামপাড়া গ্রামের বাড়িতে, জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শোক র‌্যালি ও শোক সভার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ছায়া সুনিবিড় নিভৃত পল্লী বীর দামপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২৫ সালে সৈয়দ নজরুল ইসলামের জন্ম হয়। তার বাবার নাম সৈয়দ আবদুর রইস এবং মাতার নাম বেগম নুরুন্নাহার খাতুন। তিন ভাইবোনের মধ্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মধ্যম। ছেলেবেলায় তার নাম ছিল গোলাপ। গ্রামের বাড়িতেই তার বাল্য শিক্ষা শুরু হয়। সরকারি চাকুরে তার বাবা আবদুর রইস এলাকাবাসীর কাছে সাহেব বাড়ির রইস মিয়া নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।সৈয়দ নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা ও আইএ পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে এমএ এবং ১৯৫৩ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তার সহধর্মিণীর নাম নাফিসা ইসলাম। ডাক নাম অহিদন।

১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তান সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে কর বিভাগে অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। দুই বছর পর তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। কিছুদিন পর এ পেশাও ছেড়ে তিনি আইন ব্যবসায় এবং রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

১৯৪৩-১৯৪৭ সালে সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপিও ছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ১৯৬৪ সালে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এ পদে সমাসীন ছিলেন। বাঙালির মুক্তি সনদ ছয় দফা প্রণীত হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমানকে বার বার কারারুদ্ধ করে রাখা হয়।

ওই সংকটময় সময়ে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে (১৯৬৬-১৯৬৯) গুরুদায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের উপনেতাও নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে গেলে গোটা জাতি এক ভয়াবহ সংকটে নিপতিত হয়। শুরু হয় গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি আর সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় ওই সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি।

ওয়ান-ইলেভেনের সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকারের সময় আওয়ামীলীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কারারুদ্ধ হলে সৈয়দ নজরুল ইসলামেরই সুযোগ্য প্রয়াত পুত্র নির্মোহ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মুখপাত্র হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কাণ্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং নেত্রীকে কারামুক্তসহ ক্ষমতায় ও সরকার গঠনে অসামান্য অবদান রাখেন। আর সে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, এলজিআরডি মন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর পর তাঁর শূন্য কিশোরগঞ্জ-০১ (সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে উপনির্বাচনে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের কন্যা ডা. জাকিয়া নূর লিপিকে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত করে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিবারের ঝাণ্ডা তুলে দিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্মৃতি রক্ষায় কিশোরগঞ্জ শহরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম আধুনিক স্টেডিয়াম ও তাঁর নিজ পৈত্রিক ভিটার উপকন্ঠে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন করে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।