চট্টগ্রামের ইপিজেড পতেঙ্গায় ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে হচ্ছে কী? থানার নাম ভাঙ্গিয়ে লাখ টাকা চাঁদা নেয় কে এই নবী? (ভিডিও)

দৈনিক আজকালের দপর্ণ:

দৈনিক আজকালের দর্পণ : বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ইপিজেড পতেঙ্গায় আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গজে উঠেছে স্ক্র্যাপ ও ভাঙ্গারীর দোকান।

এ সমস্ত দোকানগুলোতে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকতে দেখা যায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক বৃদ্ধাদেরও। কেউ বা ছুটে চলেছে রেল লাইনের ধারে কেউ বা চলেছে নালা নর্দমায় কোথায় পাওয়া যায় অকেজো অথবা নষ্ট হয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রনিক্স কিংবা প্লাষ্টিক জাতীয় দ্রব্যাদি। এ সমস্ত ব্যবসার নাম ভাঙ্গারী কিংবা স্ক্র্যাপের দোকান হলেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ইপিজেড পতেঙ্গা এলাকায় এ সমস্ত ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বিস্তার। বিশেষ করে ইপিজেড থানার সল্টগোলা ক্রসিং থেকে শুরু করে ২নং মাইলের হয়ে বেপজা গেইট সংলগ্ন রেলওয়ে সড়ক হয়ে আকমল মাদ্রাজী রোড ও পকেট গেইট থেকে শুর করে সিমেন্ট ক্রসিং, ষ্টীল মিল হয়ে পর্যটন খ্যাত পতেঙ্গা সী-বীচ জেলে পাড়া কাটগড় পর্যন্ত গড়িয়েছে।

আর এ সমস্ত এলাকার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে কয়েক শতাধিক ভাঙ্গারী স্ক্র্যাপের দোকান। সরেজমিনে এ প্রতিবেদন তৈরীকালে দেখা যায় এ সমস্ত দোকান গুলোকে নষ্ট কিংবা প্লাষ্টিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফ্ল্যাইওভার নির্মাণ বহু গুরুত্বপূর্ণ বহু লোহা লংকর। তাছাড়াও এ সমস্ত ভাঙ্গারী দোকানগুলোতে দেখা গেছে চট্টগ্রাম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বেপজার নিয়ন্ত্রণাধীন অসংখ্য গার্মেন্টস্ জিপার থেকে শুরু করে প্ল্যাইট ও অসংখ্য মূল্যবান লোহা জাতীয় দ্রব্যাদি রয়েছে। আর এ সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার ইপিজেড গড়ে উঠেছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট।

এ সিন্ডিকেটের মূল হোতারা বিভিন্ন পদ পদবীর পরিচয় দিয়ে শত কষ্টের অর্জিত ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা থানার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে।  সরেজমিনে এ প্রতিবেদন তৈরীকালে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন কথিত এক নবী থানার লোক পরিচয় দিয়ে প্রতি মাসে কোন দোকান থেকে সাড়ে তিন হাজার আবার কোন দোকান থেকে চার হাজার টাকা হারে মাসের শেষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক লক্ষ টাকা। তবে দোকানীরা অভিযোগ করেছেন নবীকে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার দিতে হয় কেবল মাত্র থানার ভাঙ্গিয়ে সে এ টাকাগুলি নিয়ে যায়।

তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন নবী এই টাকা কাকে  দিচ্ছে?  এক ব্যবসায়ী প্রতিবেদককে বলেন, নবী এ টাকা সুলতান নামক এক ব্যক্তিকে দেয়। তবে কে এই সুলতান? এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এ নামীয় কোন লোক যদি চাঁদা নিতে আসে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যব¯’া নেয়া হবে। অভিযোগে জানা যায় যে, কেবল মাত্র ইপিজেড ও পতেঙ্গা এলাকায় প্রায় ২ শতাধিক ভাঙ্গারী ও স্ক্র্যাপের দোকান রয়েছে। আর এ সমস্ত ব্যবসাগুলি পরিচালনার জন্য রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট বাহিনী। তারাই নিয়ন্ত্রন করে এ সমস্ত ব্যবসার বৈধ ও অবৈধ লেনদেন। তবে নবীকে নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অসহায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে ২ শতাধিক দোকান থেকে মাসিক ৪ হাজার টাকা হারে যাহা মাসিক গড় অনুপাতে দ্বারায় প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকা। তাহলে এ টাকা যাচ্ছে  কোথায়? কে এই নবী? কোথায় নিচ্ছে  এই টাকা। কে পাচ্ছে এই টাকার ভাগ বাটোয়ারা। প্রশাসন কি আজো চিহ্নিত করতে পারবে- নামধারী নবী কিংবা সুলতানের আসল পরিচয়। তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন প্রতি মাসে ৪-৫ তারিখের মধ্যে এ সমস্ত ভাগবাটোয়ারার টাকা সংগ্রহ করতে প্রতি দোকান হানা দেয় এই নবী।

টাকা দিতে গড়মিল হলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রশাসনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এই কথিত নবী। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন চাঁদাবাজদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা নিরবে নিভৃতে সহ্য করে যাচ্ছে  সমস্ত অপরাধ অপকর্ম। প্রতিবাদ করার ভাষা তাদের নেই। কারণ তারা সবাই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নগরীতে এসে ছেলেমেয়ে নিয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে কোন রকম খেয়ে পড়ে কাটিয়ে যাচ্ছে।  তারাও জোর দাবী জানিয়ে এ সমস্ত অপরাধীদের রেহাই পেতে চট্টগ্রামের মাননীয় সিএমপি পুলিশ কমিশনারসহ  স্থানীয়  প্রশাসনের একান্ত সহযোগিতা।

শর্টলিংকঃ