চট্টগ্রামের সিটি গেইটে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর: সংস্কারের নেই কোন উদ্যোগ (ভিডিও)

দৈনিক আজকালের দর্পণ ডেস্ক : যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান। যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই,  তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা,  আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।

বাংলার স্বাধীনতার স্থপতি মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান এক অনন্য নাম। তারই সুযোগ্য কণ্যা জনদরদী, মানবতার অগ্রদূত, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম নগরীর সিটি গেইট এ স্থাপিত ও কারুকার্য খচিত মহান নেতাদের ছবি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি লালিত বিশেষ নান্দনিক স্থান সমূহ ঐ দেয়ালের নান্দনিকরূপে টাঙ্গানো হয়েছে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি যে, জাতির জনকের পাশের ছবিটি রয়েছে সুযোগ্য কণ্যা জনদরদী, মানবতার অগ্রদূত, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু কিছু অজ্ঞাতনামা লোক রাতের আঁধারে মানবতার অগ্রদূত, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছিঁড়ে ফেলে এবং বেশ কিছু ছবির অংশ নষ্ট করে ফেলে। এ ব্যাপারে অদ্যবধি প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।

স্মরণে বঙ্গবন্ধু:

বাংলাদেশের তিনি জাতির পিতা এবং বঙ্গদেশের (বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার) সমগ্র বাঙালির মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলে স্বীকৃত হয়েছেন। কারণ বাঙালির জন্য একটি স্বাধীন দেশের তিনিই প্রথম রূপকার। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বাঙালিদের স্বাধীন ভূমি এনে দেওয়ার প্রয়াস ছিল অনেক বাঙালি নেতারই এবং বাঙালিকে ভালোবেসেছিলেন অনেক জননেতাই। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষ বসু, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখের অবদান বাঙালি সমাজে চিরস্মরণীয়। বাঙালিরাও তাদের আর নাম ধরে ডাকে না। বলে থাকে ‘দেশবন্ধু’, ‘নেতাজী’, ‘শেরে বাংলা’ নামে। তবে ‘বঙ্গবন্ধু’র সব খেতাবকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বময়। বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে স্থান লাভ করেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। এ ভাষণের অন্য নাম ‘বজ্রকণ্ঠ’। এ কণ্ঠ কাঁপিয়ে দিয়েছিল সমগ্র দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষকেও। তাই বিশ্বের বড় বড় জননেতাকেও ছাড়িয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু।

বিবিসির বাংলা সার্ভিসের জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। দেশের সাধারণ মানুষ এই জরিপের ফলে ব্যাপকভাবে আন্দোলিত হয়েছেন। শিক্ষিত মননশীল সমাজ ভালোভাবেই জানতেন যে, বঙ্গবন্ধুর স্থান বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাসে নির্ধারিত হয়ে আছে। কেউ ইচ্ছে করলেই তাঁকে ইতিহাস থেকে নির্বাসিত করতে পারবে না। মহাত্মা গান্ধীকে বাদ দিয়ে যেমন ভারতের ইতিহাস লেখা যায় না, মাও সেতুংকে বাদ দিয়ে চীনের, হো চি মিনকে বাদ দিয়ে ভিয়েতনামের ইতিহাস লেখা যায় না, জর্জ ওয়াশিংটনকে বাদ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস লেখা যায় না, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা যায় না।

তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীন রাষ্ট্র এনে দিয়েছেন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালির আবাসভূমি বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বিবিসির জরিপটি বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা’। এই বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনায় রেখে জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ অভিমত প্রদান করেছেন। বাঙালি জাতির জন্য শ্রেষ্ঠতম কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত কাব্য, মহাকাব্য ও অন্যান্য সাহিত্য কিংবা প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গবেষণা হয়েছে, দুনিয়ার আর কোনো জননেতা সম্পর্কে হয়তো এত রচনা এখনো রচিত হয়নি। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তিনি তাই অনন্য, অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যাও কম নয়। এগুলোর মধ্যে বাংলা একাডেমী কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর জীবনী গ্রন্থ (দুই খণ্ডে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি (২০০৮), রক্তমাখা বুক জুড়ে স্বদেশের ছবি (১৯৮২), ইতিহাসের আলোকে বাঙালি জাতীয়তার বিকাশ ও বঙ্গবন্ধু (১৯৯২), ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু (১৯৯৪), মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব (১৯৯৫), শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ (১৯৯৮), বাঙালি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু (২০০০), বাংলাদেশের সমাজবিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন (২০০০), ইতিহাসের আলোকে বাঙালি জাতীয়তার বিকাশ ও বঙ্গবন্ধু (প্রথম সংস্করণ-১৯৯২, দ্বিতীয় সংস্করণ-২০০০), বাঙালির কণ্ঠ (২০০১), সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি (২০০৪), একবিংশ শতাব্দীতে মুজিবের প্রাসঙ্গিকতা (২০০৭), সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি (২০১০), বাঙালির ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ (২০১০), আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ (২০১০)।

 

 

 

 

No description available.

 

শর্টলিংকঃ