চট্টগ্রামে পিয়াজের দাম বেড়েই বাজার স্থির!

চট্টগ্রামে পিয়াজের দাম বেড়েই বাজার স্থির!

দৈনিক আজকালের দর্পণ:  চট্টগ্রামে পিয়াজের দাম বেড়েই বর্তমানে স্থির রয়েছে বাজার। দেশি-বিদেশী পিয়াজ বর্তমান খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ২৫-৩০ টাকা বেশী দামেই বিক্রয় হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই সিন্ডিকেটকসহ নানাবিধ কারণে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারাও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। একটি বিশেষ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পিয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় প্রতিনিয়ত বেশী দামেই খুচরা বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে পিয়াজের বাজার ঊর্ধমুখী হয়ে বাজার স্থির হলেও পাইকারি বাজারে দেখা নেই খুচরা ব্যবসায়ীদের। এতে খাতুনগঞ্জের সেই পিয়াজের পাইকারি বাজারে নেই তেমন বিকিকিনি, নেই খুচরা ব্যবসায়ীদের তৎপরতাও।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভারত পূর্ব কোন ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় অস্থিতরতা, সিন্ডিকেটের নানা কৌশলে এক রাতে পিয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ। সিন্ডিকেটের ইন্ধনেই পিয়াজ বিক্রয়ও বন্ধ করে দিয়েছিল। আবার খুচরা বাজারেও নেই তেমন পিয়াজ। এতে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন সাধারণ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরা। হঠাৎ করে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুদ থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ৩৫ টাকার ভারতীয় পিয়াজ এখন বিক্রয় করছেন ৬০-৬৫ টাকায়। আর ৪৫ টাকার দেশিও পিয়াজ বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকায়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত ছাড়া বিকল্প অন্য কোন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করা গেলে পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভারত ছাড়া বিকল্প অন্য কোন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করা গেলে পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পিয়াজের সরবরাহ না বাড়লে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশি-বিদেশী পিয়াজ ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হয় বাজারে।  তিনি বলেন, এর আগেও খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই এলাকায় যে পরিমাণ পিয়াজ আসতো বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে পিয়াজের সংকটের মধ্যে চাহিদা বৃদ্ধিতে স্বাভাবিক ভাবেই দামও বেড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমদানিকারক, আমদানিকারকদের কাছ থেকে কিনে সেকেন্ড পার্টি খাতুনগঞ্জ-সহ সারাদেশে পিয়াজ সরবরাহ করে থাকেন বলে জানান তিনি। খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইদ্রিস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কিছু দিন আগে বাজারে দেশি-বিদেশী পিয়াজের দাম বেড়ে বর্তমানে স্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বাজারে দেখা নেই খুচরা ব্যবসায়ীদের। ফলে বাজারে পিয়াজের বিকিকিনিও অনেক কমে গেছে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে পিয়াজ আমদানি বন্ধের প্রভাবে বাজারে হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। সরকারের সহযোগিতায় বিকল্প পরিকল্পনা করে পিয়াজ আমদানি করতে হবে। কিছু দিনের মধ্যেই এসব দাম আবারও কমে আসবে। তবে করোনাকালীন সময়ে পিয়াজের দাম আরো বেশী ছিল, তাই অস্থিরতা না দেখিয়ে এবং সরকারের সহযোগিতা পেলেই সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিকল্পনা করে দ্রুত বাজারে আনা হবে বলে জানান তিনি।

শর্টলিংকঃ