চিলমারীতে ভয়াবহ বন্যায় দেড় লক্ষ মানুষের পানিবন্দি জীবন ॥ বাড়ছে পানি বাড়ছে দুর্ভোগ

 এম.জি.ছরওয়ার: চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাতে  ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যার পানিতে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বা এনজিওদের ত্রাণ তৎপরতা। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। চিলমারী উপজেলাকে বন্যা দূর্গত এলাকা ঘোষণার দাবী বানভাসীদের। এ দিকে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোতে রাজার ঘাট ব্রীজ, বালাবাড়ী থেকে গাবেরতল ও কাঁচকোল গ্রামীণ পাকা সড়ক ভেঙ্গে পড়ায় যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা পরিষদ, চিলমারী থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি ঢুকে পড়ায় অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ভাসছে গোটা চিলমারী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ মাঝিপাড়া, বাসন্তিপাড়া, ভরট্টপাড়া, খরখরিয়া, পাত্রখাতা, ব্যাপারি পাড়া, ডাটিয়া পাড়া, থানাহাট ইউনিয়নের রাজারভিটা, ছোট ও বড় কুষ্টারী, মন্ডলপাড়া, শান্তিনগর, আকন্দপাড়া, সবুজপাড়া, সরকারপাড়া, পুটিমারী, মাচাবান্দা, পূর্বমাচাবান্দা, ব্যাপারির বাজার, বজরা তবকপুর, ফৈলামারী, বালাবাড়ী হাট, কিশামতবানু, রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট, কুটির গ্রাম, চর বড়ভিটা, উত্তর ওয়ারী, দক্ষিণ ওয়ারী, কাঁচকোল, নয়াবস গ্রামসহ অষ্টমীরচর, নয়ারহাট, চিলমারী মিলে ৬ ইউনিয়নের শতভাগ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। Image may contain: one or more people, basketball court, outdoor and water বানভাসিদের এখন প্রয়োজন শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ। মানুষের পাশাপাশি গবাদী পশুদের নানা ভোগান্তি। খাদ্য ও আবাসন না থাকায় গবাদী পশু নিয়ে পড়েছেন মহা বিপদে। কোথাও কোথাও একসঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে এইসব গবাদী পশু ও মানুষদের। এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় অষ্টমীরচর ইউনিয়নের খামার বাঁশপাতারী গ্রামের প্রায় ৬০টি পরিবারের ঘরবাড়ী নদীর পানির তীব্র স্রোতে সম্পূর্ণ ভেসে গেছে।Image may contain: 2 people, tree, outdoor and nature ঐসকল বাড়ীর লোকজন কোনরকমে সাতরিয়ে জীবন রক্ষা করতে পেরেছেন বলে উপজেলা চেয়ারম্যান বীর বিক্রম শওকত আলী সরকার চ্যানেল সেভেন বিডি ডটকমকে জানান। উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষ পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৫৯৮ পরিবার। ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ না পাওয়ায় বেশিরভাগ পরিবার তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে ৬০ মেঃটন চাল, নগদ ২ লক্ষ টাকা ও শুকনা খাবার ১ হাজার ২‘শ প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বিতরণ চলমান রয়েছে। চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম আরো জানান, জরুরী ভিত্তিত্বে শুকনো খাবারের প্রয়োজন। চিলমারী উপজেলার ১লক্ষ ৪৭ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। এমন কোন বাড়ী নেই যে সেখানে পানি ওঠেনি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।