ঝুঁকির চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্তের উপায় নেই এখনও

দৈনিক আজকালের দর্পন/বিশেষ প্রতিনিধি: কোয়ারেন্টাইন হবে রেল হাসপাতালে, আইসোলেশন জেনারেলে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় চট্টগ্রামে বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে (রোগ সংক্রমণের আশঙ্কায় পৃথক রাখা) থাকতে হবে। কোয়ারেন্টাইনের জন্য নগরীর রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতালকে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আইসোলেশনের (সংক্রামক রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা) জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে জেনারেল হাসপাতাল ও সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিস (বিআইটিআইডি)। তবে রেলওয়ে হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে জেনারেল হাসপাতালেও রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি বিদেশফেরতদের কেউ এ নির্দেশনা না মানে তাহলে হতে পারে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন ও সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন নিশ্চিত করেছেন, করোনাভাইরাস শনাক্ত করার কোনো কিট বন্দরনগরীতে এখনও নেই। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিদেশফেরত সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তাদেরকে প্রথমে রেলওয়ে হাসপাতালে রাখা হবে। যদি এ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয় তাহলে পরবর্তীতে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাহসের খুব অভাব। ডাক্তার থেকে শুরু করে সব জায়গায় সমস্যা। তারপরও আমরা আমাদের প্রস্তুতি রেখেছি। এক্ষেত্রে কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীর সংখ্যা বেশি হলে তখন নগরীর আন্দরকিল্লায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রাখা হবে। আর আইসোলেশনের ক্ষেত্রে জেনারেল হাসপাতাল ও বিআইটিআইডিকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সব উপজেলার প্রশাসন, ইউএনও, চেয়ারম্যানকে মনিটরিং করার জন্য জানানো হয়েছে। একইভাবে সকলের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চেষ্টা করছি এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। এক্ষেত্রে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো কিছুই একার পক্ষে সম্ভব নয়।’ জানা যায়, কোয়ারেন্টাইনের জন্য আবাসিক হোটেল নির্ধারণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ। কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেও মোটেল সৈকত কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে সেটিকে চূড়ান্ত করা যায়নি। এই অবস্থায় অন্য কোনো হোটেলও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি তাই রেলওয়ে হাসপাতালকে কোয়ারেন্টাইনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের নিরাপত্তাImage result for করোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বিকল্প সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে এর মধ্যেও চট্টগ্রাম জেলা সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে। কারণ এখানে বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর আছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা হবে যেভাবে: করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত বিশ্ব। বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশও রয়েছে ঝুঁকিImage result for করোনাতে। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি কয়েকটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া গেলে বা সন্দেহভাজন মনে হলে তাদের এসব আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে। আইসোলেশন ওয়ার্ড এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে কোনও রোগীর হাঁচি-কাশি, মল-মূত্র অন্য কারও সংস্পর্শে না যায়। এসব ওয়ার্ডে যারা সেবা দেবেন তারা মাস্ক পরে রোগীদের কাছে যাবেন। তারা পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) পরবেন। মাথার ক্যাপ, চোখে গগলস, হাতে গ্লাভস, নাকে মাস্ক, শরীরে কাভার-অল, ওয়াটার প্রুফ প্যান্ট, পায়ে সু-কাভার− এই পুরো পোশাককে বলা হয় পিপিই। সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে শুরু করে যত যন্ত্রপাতি আছে সবকিছুই থাকবে একজন রোগীর জন্য ডেডিকেটেড। এসব রোগীর জন্য যেগুলো ব্যবহার করা হবে সেগুলো ফেলে দিতে হবে। পুনরায় ব্যবহার করতে চাইলে সেগুলো পুরোপুরিভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। চট্টগ্রামে যে কয়েকটি হাসপাতালে ইতিমধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। করোনা রোগী শনাক্ত হলে তার চিকিৎসায় সেখানে ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম ও চিকিৎসা সরঞ্জাম।

 

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।