নগরীতে সার্জেন্টের হাতে পায়ে ধরেও রক্ষা পায়নি চালক মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণাধীন সার্জেন্টদের হাতে প্রতিনিয়ত গাড়ীর চালকরা হয়রানির স্বীকার হয়ে আসছে। যা এ ঘটনা আর কোন নতুন নয়। অতীতেও অসংখ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীতে দায়িত্বরত সার্জেন্ট ও টিআইরা। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে, চট্টগ্রাম শহরের ৪৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে প্রতিনিয়ত দিনরাত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টবল থেকে শুরু করে সার্জেন্ট টিআইরা গাড়ী আটকিয়ে রেখে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে গাড়ী ক্রু করার মতো অভিযোগ এনে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করার ঘটনা নগরীতে নিত্যনৈম্যত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার অভিযোগ এসেছে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন চৌধুরী মার্কেটের বিপরীতে সিইপিজেড ট্রাফিক বক্সে দায়িত্ব রত টিআই নারায়রণের নিয়ন্ত্রনাধীন ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহাদাতের বিরুদ্ধে। গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং পর পর দুটি ঘটনার জন্ম দিয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহাদাত এলাকায় ব্যাপাক আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৯টায় ১৫নং ঘাট এয়ারপোর্ট থেকে সদরঘাট গামী চট্টগ্রাম ট্রাক মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণাধীন ট্রাক নং: ঢাকা-ড-৩৬০৫ নাম্বারের খালি গাড়ীটি আটক করে গাড়ীর লাইসেন্স ও ড্রাইভারের লাইসেন্স না থাকার অভিযোগ এনে উক্ত গাড়ীর চালক মোহাম্মদ জুলহাজের নিকট ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন সার্জেন্ট শাহাদাত। এই সময় উক্ত গাড়ীর চালক জুলহাজ ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহাদাতের চাপের মুখে চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় উক্ত ট্রাকটি ট্রাফিক বক্স থেকে ৫০ গজ দূরত্বে আবাসিক হোটেল মুন এর সামনে রাত ৯টা থেকে ১০টা অবদি গাড়ীটি আটকিয়ে রেখে দর কষাকষি চলতে থাকে। এক পর্যায়ে চালক অপরাগ হয়ে উক্ত গাড়ীর মালিক রাজুকে বিষয়টি অবগত করলে তাৎক্ষনিক তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং সার্জেন্ট শাহাদাতের মামলার চাপের মুখে পড়ে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে সার্জেন্টের হাতে পায়ে ধরে অবশেষে রক্ষা পেল গাড়ীর মালিক রাজু ও চালক জুলহাজ। ঘটনাটি শেষ হতে না হতেই ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় উক্ত সার্জেন্ট শাহাদাত আবার আরেকটি ঘটনার সৃষ্টি করে আবারো জনমনে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি করেছেন। এবার অভিযোগ এসেছে নগরীর ইপিজেড বাস টার্মিনাল থেকে কর্নেল হাট গামী ১১নং যাত্রীবাহী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস চট্টমেট্রো-জ-১১-১৯৪৫ নাম্বারের যাত্রীবাহী গাড়ীটি আটক করে চালক ও গাড়ীর হেলপারের সাথে বাকতিন্ডার সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে চালক ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আমার গাড়ীর কাগজপত্র সবই ঠিক আছে কিন্তু কেন আপনি আমার গাড়ী আটকিয়ে যাত্রীদের দিলেন? সকাল থেকেই দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বর চলছিল সার্জেন্ট শাহাদাতের ডিউটি এ সময় সার্জেন্ট শাহাদাতের সাথে থাকা তার এক কন্সটেবল গাড়ীটি আটক করে চালক ও হেলপারের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করায় উভয়ে মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সার্জেন্ট শাহাদাতের কন্সটেবল উক্ত গাড়ীর হেলপার আবুল কালামের উপর উপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে। এ বিষয়ে উক্ত গাড়ীর চালক মিরাজ সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন; প্রতিদিন ইপিজেড থেকে গাড়ী ছেড়ে নগরীর কর্ণেল হাটের দিকে যেতেই ইপিজেড ট্রাফিক পুলিশ বক্সে দায়িত্বেরত ট্রাফিক পুলিশদের অনির্ধারিত মোটা অংকের চাঁদার মুখে পড়ে আমরা গাড়ী চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। এ বিষয়ে উক্ত ঘটনাস্থলে দায়িত্বেরত ট্রাফিক সার্জেন্টদের টিআই নারায়ণের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে উক্ত প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। অভিযোগ এসেছে দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত ঘটনাস্থলে টিআই নারায়ণ দায়িত্বরত থেকে এম এ আজিজ ভিআইপি সড়কে ২নং মাইলের মাথা থেকে শুরু করে আকমল আলী সড়ক পর্যন্ত প্রতিনিয়ত অবৈধ টমটম ও অটোরিক্সার অবাধ বিচরণের ফলে উক্ত সড়কে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। রাস্তায় যানজট থাকলেও টিআই নারায়ণকে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশেই মধুবন মিষ্টির দোকানে এসি রুমে বসে বিভিন্ন গাড়ীর চালক ও মালিকদের সাথে অবৈধ চুক্তির মাসিক লেনদেনের টাকা ভাগাভাগি করতে দেখা যায়। টিআই নারায়ণের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও পত্রপত্রিকায় বহুবার লেখালেখি হলেও তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ট্রাফিক বিভাগের উপর মহলে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বন্দর যোনের ইপিজেড শাখায় টিআই নারায়ণ আবারো ১ বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা যায়। শুধু তাই নয় উক্ত টিআই নারায়ণের বিরুদ্ধে আরো অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় আমাদের হস্তগত হয়েছে। নগরীর এই ইপিজেড শিল্প এলাকাটি চট্টগ্রাম শহরের ২য় বন্দর নগরীর রাজধানী খ্যাত হলেও এর পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র অর্থনৈতিক যোন চট্টগ্রাম বন্দর এই বন্দর থেকে প্রতিদিন দেশ বিদেশে অর্থনৈতিক লেনদেনের একটি অংশ বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত রয়েছে। আর এই চট্টগ্রাম বন্দরকে পুঁজি করে টিআই নারায়ণ থেকে শুর করে বন্দর যোনের সকল ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের কর্মকান্ডের পালা। মাসিক টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে এই ভিআইপি সড়কে দিনের পর দিন চলতে থাকে ফিটনেস ও লাইসেন্স বিহীন অকোজো গাড়ীগুলো আর এ সমস্ত গাড়ী গুলি পরিচালনায় জড়িত রয়েছেন বন্দর যোনের টিআই নারায়ণ থেকে সার্জেন্ট শাহাদাত, টিআই মশিউর। লক্ষ লক্ষ টাকা টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে অর্থ হাতিয়ে ওরা। চট্টগ্রাম শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই এমএ আজিজ বিমানবন্দর সড়কটি। এই সড়কের পাশেই বাংলাদেশ সরকারের রপ্তানীপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প নগরী। একটি সিইপিজেড ও অন্যটি কর্ণফুলী ইপিজেড। সড়কটি যোগাযোগে অত্যন্ত চড়া না হলেও এর আশে পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি কন্টেইনার টার্মিনাল। তারপরেও দিনরাত এ সড়কের উপর সার্জেন্ট ট্রাফিকদের অনৈতিক চাঁদাবাজির কারণে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এ যানজটের কবলে পড়ে অনেক শিশু ও মহিলা রোগীরা হাসপাতালে নেয়ার পথে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। এদের চাঁদাবাজির কারণে থমকে দাঁড়িয়েছে বন্দর নগরী সিইপিজেড এলাকার সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ব্যবস্থা। যানজটের কবলে পড়ে শুধু শিশু ও মহিলা রোগী অকালে প্রাণই হারাচ্ছে না এ যানজটের কবলে আটক পড়ে নগরীর

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।