নিষিদ্ধ করা হল সব ধরনের এনার্জি ড্রিংকসের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাত করন

দৈ‌নিক আজকা‌লের দর্পন :মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ক্যাফেইনের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়ার জন্য সব ধরনের এনার্জি ড্রিংকসের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তাছাড়া এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিএফএসএ ও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই।এদিকে আমদানি বন্ধে গত ৪ অক্টোবর দেশের সব কাস্টম হাউসকে চিঠি দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। আর স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসটিআই। চিকিৎসকদের মতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন লিভারে চর্বি জমায়। হৃদপিণ্ডের রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে রক্ত চলাচল ধীর করে দেয়। বুক ধড়ফড়ানি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চরক্তচাপ, ঘুমের ব্যাঘাত, শরীরে অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করে টানটান উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।তাছাড়া দিনের পর দিন অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধও কাজ করে না। কাস্টম হাউসে গত বৃহস্পতিবার পাঠানো নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএসটিআই নির্ধারিত মানবহির্ভূত কার্বোনেটেড বেভারেজ বিশেষত যেসব কার্বোনেটেড বেভারেজে ক্যাফেইনের মাত্রা প্রতি লিটারে ১৪৫ মিলিগ্রামের বেশি, সেগুলো আমদানি ও বিক্রি করা যাবে না।এ ধরনের কার্বোনেটেড বেভারেজ/ড্রিংকস আমদানি ও বন্দর থেকে খালাস বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাস্টমসকে বলা হল। একই সঙ্গে কার্বোনেটেড বেভারেজের মোড়কে এনার্জি ড্রিংকস ঘোষণা দেয়া বিভ্রান্তিকর বিধায় লেবেলে এনার্জি ড্রিংকস মুদ্রিত কার্বোনেটেড বেভারেজ আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।তাছাড়া কার্বোনেটেড বেভারেজ খালাসের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া দেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার জন্যও বলা হয়। এ চিঠির অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, নামসর্বস্ব অনেক দেশীয় কোম্পানি এনার্জি ড্রিংকসের নামে নেশাজাতীয় পানীয় দেশের বাজারে বিক্রি করছে।আবার বিদেশ থেকে আমদানিও হচ্ছে। এ ধরনের একটি পানীয় রেড বুল, যা রাজধানীর উঠতি তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এই এনার্জি ড্রিংকসের মোড়কে ঘোষিত তথ্যমতে, এতে প্রতি লিটারে ৩২০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন আছে। অন্যদিকে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে দেশীয় কিছু কোম্পানি এনার্জি ড্রিংকস বানাচ্ছে। গ্রামের ছোট টং দোকান ও হাটবাজারে যা বিক্রি করা হয়। সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এসব ড্রিংকস সেবনে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।তাছাড়া এক সূত্র জানায়, দেশীয় যেসব প্রতিষ্ঠান কার্বোনেটেড বেভারেজের লাইসেন্স নিয়ে এনার্জি ড্রিংকস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে বেশকিছু পরীক্ষায় দেশীয় কার্বোনেটেড বেভারেজে এনার্জি ড্রিংকসের মতো ক্যাফেইনের মাত্রা পাওয়া গেছে। এখন নতুন করে বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষা করা হবে।পরীক্ষায় বিএসটিআই নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ক্যাফেইন পাওয়া গেলে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বলেন, এনার্জি ড্রিংকসের জাতীয় মান নেই। এ সুযোগে ৩২০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন সমৃদ্ধ ড্রিংকস আমদানি হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এনার্জি ড্রিংকস আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।