বৃহস্পতিবার অছিয়র রহমান চরণদ্বীপির বার্ষিক ওরশ

দৈনিক আজকালের দপর্ণ:

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য়ের মধ্যে দিয়ে কুতুবুল আকতাব হযরত মাওলানা শাহছুফি শেখ অছিয়র রহমান আল-ফারুকী (ক.) এর বার্ষিক ওরশ আগামী বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারী) বোয়ালখালী উপজেলা চরণদ্বীপ দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতি বছর ৭ই মাঘ কুতুবুল আকতাব ছুরতে গাউসুল আজম অছিয়র রহমান আল ফারুকী চরণদ্বীপীর (ক.) বেলায়েত ও বেলাদত বার্ষিকী ওরশ শরীফ যথাযোগ্য মর্যাদায় বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী চরণদ্বীপ দরবার শরীফে পালিত হয়। এ উপলক্ষে দিন-রাত ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে ওরশ উদযাপন কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে মাজার জেয়ারত, মিলাদ মাহফিল, জিকির, ছেমা মাহফিল, আখেরি মোনাজাত ও তবারুক বিতরণ।

এছাড়া, চরণদ্বীপ দরবার শরীফের ভক্ত-আশেক, মুরিদান ও খেলাফতধারীরা ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বলে জানা গেছে। তারমধ্যে রয়েছে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও ছেমা জিকির। ওরশে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল ভক্তবৃন্দকে উপস্থিত থাকার জন্য দরবার শরীফের মোস্তাজেম ও সাজ্জাদানশীন পীরে ত্বরিকত হযরতুলহাজ শাহ্সুফী শেখ আবু মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ফারুকী (ম.জি.আ) বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

প্রসঙ্গত, ছুরতে গাউসুল আজম শাহ চরণদ্বীপী (কঃ) ত্রিশ বৎসর বয়সে গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক:) হতে খেলাফত লাভ করিয়া দশ বছর ফানাফিল্লাহ ও বকা বিল্লাহ হালতে পাহাড়-পর্বত ও গহীন আরন্যে ভ্রমন করে পুনরায় হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর (ক:) খেদমতে উপস্থিত হন।

হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) ছুরতে গাউছুল আজম শাহ চরণদ্বীপী (ক:) কে বলেন, ‘আমি তোমাকে হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রাঃ) এর আসন দিয়াছি। হযরত রাসূল পাক (দঃ) এর পবিত্র চাদর মোবারক তোমাকে দিয়েছি। তুমি শাহে আলী (কঃ) ও জহুর শানে নুরানী, মাহবুবে চোবহানী, তোমাকে আমার একটি চোখ দিয়েছি, তুমি আমার সুক্ষ্ম তত্বজ্ঞান খনি। তুমি বাদশাহের পুত্র বাদশা। গাউসুল আজমের পুত্র গাউসুল আজম। তুমি যাও আপন গৃহে আমার গদীতে বসিয়া থাক’। এইরূপে কয়েকটি শুভ সংবাদ প্রদান করে ছুরতে গাউসুল আজমকে সর্ব প্রথম গদীর হুকুম দেন এবং ষোলআনা নেয়ামতের নমুনা স্বরূপ ১৮৮৫ খৃঃ মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ছবিযুক্ত একটি রৌপ্য মুদ্রা তাঁহার হাতে দিয়ে বিদায় দান করেন। এরপর ছুরতে গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী চরণদ্বীপী কেবলা হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী কেবলার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পর একাধারে চল্লিশ বছর নিজ বাড়িতে গদিশীন হন। তিনি ১৩১১ হিজরী সনের ০৭ই (সাত) মাঘ গাউছুল আজম আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর (ক:) নির্দেশে গদীনশীন হয়ে ভক্ত শিষ্যগণ নিয়ে ওরশ শরীফ ও ফাতেহা নেয়াজ সমাপন করেন। একমাত্র শাহ চরণদ্বীপি কেবলাই হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) জীবিতাবস্থায় গদির হুকুমধারী প্রথম ও প্রধান খলিফা।

সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী কর্তৃক লিখিত ‘গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত’ গ্রন্থে ও ছুরতে গাউসুল আজম হযরতশাহসূফী শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকীকে (কঃ) প্রথম ও প্রধান খলিফা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ