মায়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়ের মর্মস্পর্শী আবেদন

মায়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়ের মর্মস্পর্শী আবেদন

দৈনিক আজকালের দপর্ণ:

দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি ফারাজী আজমল হোসেনের মেয়ে ফারাজী জান্নাতুল সাদিয়া দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় তার মা (ফারাজীর স্ত্রী) ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জিন্নাতুন বাকিয়ার অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার মা কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য গত বছর ২২ অক্টোবর দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে ডা. বিজয়া রাজকুমারীর অধীনে ভর্তি হন। কিন্তু ভর্তির পর থেকেই ডা. বিজয়া রাজকুমারীসহ তার চিকিৎসক টিমের অন্যদের চরম অবহেলা, অহেতুক অতিরিক্ত খরচ, বিভিন্ন টেস্টের নামে চরম ভোগান্তিসহ নানা দুর্ভোগ শুরু হয়। এসবের প্রতিবাদ করায় শেষের দিকে রোগীর লোকজনের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং রোগীর প্রতি চরম অবহেলা ও অযত্নের কারণে জিন্নাতুল বাকিয়ার ১১ডিসেম্বর মৃত্যু হয়।
 যা হত্যার শামিল বলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনে উল্লেখ করেন মেয়ে ফারাজী জান্নাতুল সাদিয়া। অথচ এসব অভিযোগের প্রতি কর্ণপাত না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩৩ লাখ রুপি বিল ধরিয়ে দেন। ফারাজী জান্নাতুল সাদিয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে উল্লেখিত ঘটনার একটি সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনাও করেছেন। বিষয়টি তিনি বাংলাদেশ-ভারতের সরকার থেকে সমাধানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের করুন আবেদন জানিয়েছেন।
নিচে আবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো :
প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই নন, আপনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত সরকারের কাছেও আপনার রয়েছে অভূতপূর্ব গ্রহণযোগ্যতা। তাই আজ আপনার কাছে একটি ন্যায্য বিচারের প্রত্যাশায় আমার এই আবেদন।
গত ২২ অক্টোবর ২০২০ আমার আম্মা জিন্নাতুন বাকিয়াকে দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে ডা. বিজয় রাজাকুমারীর তত্ত্বাবধানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পূর্বেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী আমার মায়ের করোনা টেস্ট করে এবং তাতে দেখা যায় তিনি করোনা নেগেটিভ, অর্থাৎ তার কোনো করোনা সংক্রমণ নেই। এরপর অপারেশনের জন্য তাকে দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার নয়ডা অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সফলভাবে অপারেশনের পর তাকে ওইদিন রাতেই দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ২৮ অক্টোবর তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ শরীরে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। কিন্তু তাকে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার রক্তের নমুনাপ্রদানসহ অন্যান্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেন ডা. বিজয়া রাজকুমারী এবং ৬ মাস আমার আম্মাকে পুরোপুরি আইসোলেশনে থাকারও পরামর্শ দেন। এসময় আমার পিতা তাকে বলেন, সপ্তাহের শুরু এবং শেষ দিন এই হাসপাতালে রোগী ও তাদের অ্যাটেনডেন্টদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। সুতরাং এই ভিড়ের মধ্যে তাকে স্যাম্পল দেওয়ার জন্য হাসপাতালে আনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ সময় আমার পিতা হাসপাতালের সন্নিকটে জিকে-১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট আমাদের ভাড়া করা বাসা থেকে আম্মার স্যাম্পল সংগ্রহের অনুরোধ জানান এবং এই নমুনা সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত ব্যায় বহনের অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ডা. রাজকুমারী তাতে কর্ণপাত করেননি। এই হাসপাতালে ছিল অসংখ্য কোভিড-১৯ রোগী। তথাপি বাধ্য হয়ে আমার আম্মাকে সেখানে স্যাম্পল দিতে যেতে হয়েছে। এক পর্যায়ে আমার আম্মা জ্বরে আক্রান্ত হন। অতঃপর সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের পরামর্শে ১১ নভেম্বর পরীক্ষাকালে আমার আম্মা কোভিড পজিটিভ বলে চিহ্নিত হন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই হাসপাতালে নমুনা দিতে যাওয়ার জন্য যাতায়াতের কারণেই তিনি কোভিড সংক্রমিত হন। কোভিড রোগী ছাড়াও হাসপাতালটিতে ছিল গিজগিজ করা মানুষের ভিড়। অথচ আমার আম্মার মতো উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের রক্ত সংগ্রহের জন্য সেখানে কোনো পৃথক ব্যবস্থা ছিল না। এই হাসপাতালটিতে আমার আম্মার মতো জটিল রোগীদের রক্ত পরীক্ষার জন্য কোনো পৃথক ব্যবস্থা ছিল না। হাসপাতালটির পরিবেশও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাকে সাধারণ করোনা পরিক্ষার জন্য আসা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আমার আম্মার করোনা পজিটিভ দেখা দেওয়ার পর ডা. বিজয়া রাজকুমারীর পরামর্শে বাসায় বসেই আমরা তার পরিচর্যা করতে থাকি। আমার মায়ের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ২০ নভেম্বর সকালে তাকে একই হাসপাতালের কোভিড ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাতেই তাকে হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে কোভিড আইসিইউতে নেওয়া হয়। আমার আম্মাকে এমন অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রেখে ডা. বিজয়া রাজকুমারী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার দূরে চেন্নাই চলে যান। এমন পরিস্থিতিতে আমার পিতা ফারাজী আজমল হোসেন হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান সঙ্গীতা রেড্ডির কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু এতে কোনো প্রতিকার না হওয়ায় আমার পিতা এক পর্যায়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে জানান। মি. শ্রিংলা এ বিষয়ে হায়দারাবাদে অ্যাপোলো হাসপিটালসের ভাইস চেয়ারম্যান সংগীতা রেড্ডির সঙ্গে কথা বলেন। সংগীতা রেড্ডি বিজয় রাজকুমারীকে চেন্নাই থেকে তার কর্মস্থল দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে ফিরে আসতে নির্দেশ দেন। এবং ৪ ডিসেম্বর ড. বিজয়া ফিরে আসতে বাধ্য হন। ৪ ডিসেম্বরই আমার পিতার সঙ্গে হাসপাতালের মেডিকেল সার্ভিসের পরিচালক ডা. এন সুব্রমনিনান তার অফিসে ডেকে কথা বলেন এবং নিশ্চিত করেন যে আমার আম্মার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়মিত জানানো হবে। কিন্তু তিনি তার কথা ঠিক রাখেননি। পরে তাকে আমার পিতা ফোন করলে তিনি বলেন যে, একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ব্যস্ত থাকবেন।
এদিকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য একটি লাউঞ্জ (আইপিএল) আছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকেও কোনো তথ্য বা সহযোগিতা আমরা পাইনি।
এরপর আমার আম্মা ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ কোভিড পরিক্ষায় নেগেটিভ হন এবং তাকে কোভিড আইসিইউ থেকে বের করে মেডিকেল আইসিইউতে নেওয়া হয়। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান যে আমার আম্মা শঙ্কামুক্ত এবং উত্তরোত্তর ভালো হয়ে উঠছেন। কিন্তু ডা. বিজয়ার সঙ্গে আমার পিতার কিছু কথোপকথনের পর থেকে আমার আম্মার শরিরীক অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে।
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই ডা. বিজয়া স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং তিনি অসাদাচরণ করে অভ্যস্ত একজন মানুষ। আমার পিতার অভিযোগের পর তাকে দিল্লি ফিরে আসতে হয় বিধায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। আমার মায়ের কিডনী যখন কাজ করছিল না তখন এই ডা. বিজয়া কাছ থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমনকি তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যেত না। অবস্থা আরো অবনতি হলে আম্মাকে প্রথমে অক্সিজেন সাপোর্ট এবং পরে ৯ ডিসেম্বর ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। তাতে কোনো কাজ হয়নি। ১১ ডিসেম্বর ডা. বিজয়া রাজকুমারীর অধীনে কর্মরত একজন চিকিৎসক মোবাইলে টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে আমার পিতাকে বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে রাজকুমারীর সঙ্গে দেখা করতে বলেন। যথাসময় আমার পিতা গিয়ে দেখা করেন। এই সময় আমার পিতা ফারাজী আজমল হোসেনকে এই ডাক্তার বিজয়া রাজকুমারি হুমকী দেন এবং বলেন, ‘তোমার কত বড় দুঃসাহস! তুমি আমার সেবা নিয়েছ আবার আমার নামে নালিশও করেছ!’ এ সময় আমার পিতা জানান যে যখনই আপনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছি তখনই আপনি আপনার পিএস এর সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন; কিন্তু আপনার পিএস ভাগিরথ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপারেশনসহ বিভিন্ন সহযোগিতার নামে ৩৩ হাজার রুপি ঘুষ নিয়েছেন। এই কথোপকথনের পর আমার পিতা সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আসেন। এর সাড়ে তিন ঘন্টা পর হাসপাতালের মেডিকেল আইসিইউ থেকে একজন নার্স আমার পিতাকে ফোন করে হাসপাতালে যেতে বলেন। আমার পিতা রাত ৯টায় মেডিকেল আইসিইউতে গিয়ে দেখেন, আমার আম্মার নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে। আমার মায়ের মৃত্যুর পর তারা ৩৩ লাখ ভারতীয় রুপির একটি বিল ধরিয়ে দেয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অপারেশনের আগে এবং পরে আরো কয়েকটি অনভিপ্রেত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। আমার আম্মা ১৯৮৭ সাল থেকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরিরত ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে মাসিক প্রায় আড়াই লাখ টাকা বেতন-ভাতা পেতেন। এ সংক্রান্ত ব্যাংক সনদ এবং চিকিৎসার জন্য ছুটির অনুমতিপত্র নিয়ে তিনি দিল্লির অ্যপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আমার পিতা ৪৭ বছর যাবত দৈনিক ইত্তেফাকে কর্মরত আছেন। তার বর্তমান পদমর্যাদা পলিটিক্যাল এডিটর (বিশেষ প্রতিনিধি)। তিনিও সম্মানজনক বেতন পান; কিন্তু আমার আম্মার অপারেশনের কয়েক দিন আগে বিজয়া রাজকুমারী আমাদের পেশাগত পরিচয় শুনে তা গোপন রাখতে বলেন এবং এ বিষয়ে তার পিএস ভাগিরথের সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন। পরে আমরা তার পিএস এর সঙ্গে কথা বললে ভাগিরথ জানান, আমার পিতা-মাতা চাকরিজীবী সেকথা কোথাও উল্লেখ করা যাবে না। শুধু আমার পিতাকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতে হবে এবং তার মাসিক আয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার বেশি দেখানো যাবে না বলে জানান। যেহেতু আমার আম্মার ভিসায় চিকিৎসার জন্য দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতাল উল্লেখ ছিল, সেহেতু অন্য কোনো হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। আর তাই আমার পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে ঘোষণা দিতে বাধ্য হোন। এটা হাসপাতালের একটি রহস্যজনক আচরণ ছিল।
১১ডিসেম্বর আমার আম্মা চিরবিদায় নেওয়ার পর ১২ ডিসেম্বর সকালে আমরা দিল্লি থেকে গৌহাটি হয়ে বিকালে কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বিমান বন্দরে এসে পৌঁছি। পরে আমাদের শুভাকাক্সক্ষীদের সহযোগিতায় আমার আম্মার মৃতদেহ অপর একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ওই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর আমার আম্মার কফিন আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আমরা রাত ৯টায় কফিন নিয়ে সড়ক পথে হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি এবং পরদিন তার দাফন সম্পন্ন হয় পারিবারিক গোরস্তানে।
উল্লেখ থাকে যে, অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মায়ের মৃতদেহ ফেরত দিলেও নিয়মানুযায়ী চিকিৎসার ফাইলসহ কোনো কাগজপত্রই ফেরত দেয়নি। অনেক কষ্টে আমার আম্মার ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়েছে। এটা পরিষ্কার যে ডা. বিজয়া রাজকুমারীসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা ইচ্ছাকৃতভাবে আমার মায়ের অবহেলা করেছেন যা প্রকারান্তরে হত্যার শামিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার স্বামী বিএম নেহাল হাসান (সজীব) গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের সন্তান। তিনি ইউকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি নিজেও লন্ডন থেকে এসিসিএ লেখাপড়া সম্পন্ন করে এসেছি। আমার পিতা একজন অকুতোভয় আওয়ামী সৈনিক এবং আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিক হিসাবে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে আপনার বিটের রিপোর্টার হিসাবে কাজ করে আসছেন। আমার বড় চাচা ফারাজী শাহাদাত হোসেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য আমার আম্মাও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এবং সেখানে ছাত্রলীগের আন্দোলন সংগ্রামে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায়
মায়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়ের মর্মস্পর্শী আবেদন
সাংবাদিক ফারাজীর স্ত্রী ব্যাংক কর্মকর্তার করুণ মৃত্যু
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমার মায়ের সমতুল্য। আম্মার মৃত্যুর পর এখন আপনাকেই আমি মা জ্ঞান করি। আমরা আপনার মাধ্যমে উপরে উল্লেখিত ঘটনার একটি সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি। বিষয়টি বাংলাদেশ ভারতের সরকার থেকে সরকার সমাধানের জন্য ব্যবস্থা করলে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, পরিশেষে আমার আম্মার চিকিৎসার জন্য আপনি ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা হিসাবে দিয়েছিলেন, সেজন্য আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বিনীত
আপনার স্নেহের-ফারাজী জান্নাতুল সাদিয়া, পিতা: ফারাজী আজমল হোসেন, ৯/৫, টোলারবাগ আবাসিক এলাকা,
মিরপুর, ঢাকা, মোবাইল: ০১৭১১৭৩৬৩৩৭
শর্টলিংকঃ