মীরসরাইয়ের আওয়ামী রাজনীতিতে মোশারফ হোসেন মান্না ‘এক আদর্শের নাম’

No description available.

দৈনিক আজকালের দর্পণ ডেস্ক /অলিউল্লা নিজামী মীরসরাই থেকে :

চট্রগ্রামের মীরসরাইয়ের আওয়ামী রাজনিতীতে ১৯৯৪ সালে ছাত্ররাজনিতীতে প্রবেশ করেন মোশারফ হোসেন মান্না।মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে সর্বপ্রথম সান্নিধ্যে আসেন বর্তমান চেয়ারম্যান মুকছুদ আহাম্মদ চৌধুরী এবং তৎকালীন সময়ের মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম মোঃ আলী সাহেবের।

এস এস সি পরীক্ষার্থী থাকাকালীন জোরারগঞ্জ শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ এর ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন মোশারফ হোসেন মান্না । ৯৬ র অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে তৎকালীন সময়ে ছাত্রলীগ নেতাদের নজর কাড়েন এই নেতা।সান্নিধ্যে পান তৎকালীন নিজামপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রানা,তৎকালীন মীরসরাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজউদ্দৌলা,তৎকালীন মীরসরাই উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফার।

এরপর ১৯৯৫-৯৬ সালে জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্রলীগ/ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন মোশাররফ হোসেন মান্না এবং এরপর ১৯৯৭-৯৮ সালে একই ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। সে সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়তা এবং মেধার পরিচয় দিয়ে মীরসরাই উপজেলা ব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন মোশারফ হোসেন মান্না।বিশেষ করে দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে অগ্রসৈনিক হিসেবে নেতৃত্ব দেন তিনি।ধীরে ধীরে নাম লিখান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ৭ বারের নির্বাচিত সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবে।

এরপর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সুমন-মঞ্জু পরিষদের সহ-স্কুলছাত্র বিষয়কবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন সাবেক এই ছাত্রনেতা।ধীরে ধীরে প্রবেশ করেন উপজেলা ছাত্রলীগের মূল নেতৃত্বে।২০০৪ থেকে ২০০৫ এর মাঝামাঝি সময়ে মীরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।ছাত্রলীগের রাজনীতিতে গৌরবময় অর্জন নিয়ে ২০১০ সালে তিনি নির্বাচিত হন মীরসরাই উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক।ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়া যু্বলীগকে শক্তিশালী করতে কাজ করেন তিনি। মোশাররফ হোসেন মান্না এবং তার আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে উপজেলার ১১ টি ইউনিটে যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।

দুঃসময়র ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থেকে ৬ মাস কারা নির্যাতনের শিকার হন বর্তমানের সময়ের যুবলীগের এই নেতা।৯৬ তে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তখন মীরসরাই উপজেলা ব্যাপী ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেন তিনি।২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মীরসরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও ২ বছর নিজ এলাকা জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে সাংগঠনিক অবস্থান পাকপোক্ত রেখেছিলেন মোশারফ হোসেন মান্না।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এই নেতা।২০০২ সালে চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় দুঃসময়ে থাকাকালীন অবস্থায় ও প্রায় ২০ বাস নেতা-কর্মী নিয়ে সমাবেশস্থলে ছুটে যান তিনি।ওয়ান এলিভেন সরকার গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হলে মীরসরাইয়ে মান্নার নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিবাদ সমাবেশ সম্পন্ন করা হয়।

তৎকালীন সময়ে বার বার মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেন তিনি।২০০৭ সালে আড়াই মাস কারাগারে থাকার পর মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মায়ের জানাযায় অংশ নেন মোশারফ হোসেন মান্না।২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সাথে উপজেলার ১৮ টি ইউনিটে প্রতিটি পাড়া বৈঠক, ওঠোন বৈঠকে থেকে দলের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন এই নেতা।

২০১৪ সালে বি এন পি-জামাতের পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন মোশারফ হোসেন মান্না। মিরসরাই উপজেলা যুবলীগে আগামীর নেতৃত্বে দুঃসময়ের এই ছাত্রনেতাকে মূল্যায়েনর জন্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যম গুলোতে ব্যাপক আলোচনা চলছে।মতামত দিচ্ছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মানারাথ চৌধুরী বাবু বলেন,মিরসরাই উপজেলায় আজকে যারা ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছে কিংবা দিয়েছে তাদের বেশীরভাগই ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন মান্না ভাইয়ের মাধ্যমে।মীরসরাইয়ে মোশারফ হোসেন মান্না ব্যাপক ছাত্রনেতা বের করেছেন,নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছেন।আমি আজকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক।

আমার ছাত্ররাজনীতির পথচলা মান্না ভাইয়ের মাধ্যমে। মীরসরাই সমিতি ওমানের সাধারণ সম্পাদক এবং যুব নেতা ইকবাল হোসেন রনি বলেন,মীরসরাই উপজেলায় মান্না ভাইয়ের যে নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছেন তার ধারাবাহিকতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম থেকে যাবে।দলের দুঃসময়ের মান্না ভাইয়ের ভূমিকার কথা বর্তমান প্রজন্ম জানে না।হাইব্রীডদের ছড়াছড়িতে অনেকে মান্না ভাইদের অবদানের কথা ভুলে গিয়েছে। আগামীতে আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবু্ব রুহেলের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে মীরসরাইয়ে উপজেলা যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে যুবলীগের সভাপতি হিসেবে মোশারফ হোসেন মান্না কে নির্বাচিত করার জন্য মতামত জানিয়েছেন উপজেলার ১৮ টি ইউনিটের যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

এই ব্যাপারে মোশারফ হোসেন মান্না বলেন,আমরা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দুঃসময়ের কর্মী,সুসময়ে আমরা নিরবে দলের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছি।আমি কখনো দলের নাম বিক্রি করে,ক্ষমতা দেখিয়ে কোনো প্রভাব প্রদর্শন করি নি।দল এবং আমার নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনর সম্মান রক্ষার্থে আমি সবসময় অনড় ছিলাম।আগামীতে যদি আমাকে যুবলীগের নেতৃত্ব দেওয়া হয় আমি আমাদের মীরসরাইয়ের আগামীর নেতা আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রুহেলের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে অতীতের ন্যায় যুবলীগেকে আর বেশি সুসংগঠিত করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

 

No description available.

 

 

শর্টলিংকঃ