যশোরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই শিক্ষক গ্রেপ্তার

দৈনিক আজকালের দর্পন :যশোরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার মণিরামপুরের ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী মেয়েটি। এ অভিযোগে ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মণিরামপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিব হাসান। এ সময় পুলিশ তরিকুলকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে। আর নজরুলকে দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। বিকালে চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে এবং সোমবার সন্ধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া বাজার থেকে তরিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুইজন ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।

এএসপি রাকিব হাসান জানান, ৩ অক্টোবর রাতে ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে তরিকুলকে প্রধান ও নজরুলকে সহযোগী উল্লেখ করে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখায় তাদের গ্রেপ্তারে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে।

এএসপি বলেন, রাতে সাধারণত শিক্ষার্থীরা বাড়িতে লেখাপড়া করবে। রাতে শিক্ষকরা কেন তাদের কোচিং করাবেন। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি দেখভাল করা দরকার।এদিকে গত শনিবার ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মেডিকেল ও ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করে।অপরদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে।জানা গেছে, ১৫-২০ দিন আগে থেকে ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের সন্ধ্যা কোচিং চালু করে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন দুজন করে শিক্ষক ১৫-১৭ জন ছাত্রীর কোচিং নেন। গত সোমবার কৃষি শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী শিক্ষক নজরুল কোচিং করান। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে টয়লেটে যায় ওই ছাত্রী। তার মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন টয়লেট থেকে বের হলে তরিকুল তাকে ধর্ষণ করেন। আর তাকে সাহায্য করেন নজরুল। পরে তারা অচেতন অবস্থায় ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার গলিতে ফেলে রেখে যান। এদিকে কোচিং শেষে সব শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরলেও ফেরেনি ওই ছাত্রী। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা তার খোঁজে মাদ্রাসায় আসেন। তারা এসে কাউকে পাননি। একপর্যায়ে মাদ্রাসার টয়লেটের গলিতে গিয়ে ওই ছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে তাকে বাড়িতে নেয়া হয়। জ্ঞান না ফেরায় রাত দুইটার দিকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে থেকে ফিরে ২ অক্টোবর ওই ছাত্রী পিতামাতাকে সব খুলে বলে। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরদিন মাদ্রাসায় হামলা চালায়।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।