রহস্যময় বিদ্যুৎ কর্মকর্তা অফিসে থেকে তৈরি করেন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল! দিশেহারা গ্রাহক

দৈনিক আজকালের দর্পন ডেস্ক : মিটার রিডাররা গ্রাহকের বাড়ি না গিয়ে দ্বিগুন বাড়িয়ে বানাচ্ছে বিদ্যুৎবিল! ‘করোনার পরিস্থিতিতে মিটার রিডাররা গ্রাহকের বাড়িতে না গিয়ে মনগড়া দ্বিগুন বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগ’ গোটা দেশ মহামারী করোনার থাবায় থমকে গিয়েছে,যেখানে প্রতিটি নাগরিকের রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, কোনভাবে খেয়ে না খেয়ে অনির্দিষ্ট কালের সাথে যখন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। তখন চলমান পরিস্থিতিকে বিবেচনা করে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ঋণ নেয়া গ্রাহকদের ৬ মাসের কিস্তি স্থগিত করেছেন। সেখানে পল্লী বিদ্যুৎ কি ৬ মাসের বিল মওকুফ করে আত্মমানবতার পাশ্বে দাঁড়াতে পারেনা। আসলে পল্লী বিদ্যুৎ তুমি কার যেখানে সরকার জনগনের পাশ্বে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ মুহুর্তে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অনুমান ভিত্তিক ইচ্ছামত অংক বসিয়ে একসাথে ডবল বিল বানিয়ে বিলের কাগজ গ্রাহকদের ধরিয়ে দিচ্ছেন। যা এ মুহুর্তে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর কর্মহীন পরিবারগুলোর ঘাড় মটকানোর মতো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক শ্রমজীবি মানুষ অভিযোগ করেছেন, আগের চেয়ে বর্তমানে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে। যে ঘটনায় মীরসরাই উপজেলার অধিকাংশ গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার পাশ্বে ১২নংখৈয়াছরা ইউনিয়নের ০৩ ওয়াডের ইউনুছ আহম্মেদ ও ফজলুল হক( দিদার হুজুর) পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যাওয়ার পর উপস্হিত অফিস কর্মকর্তা গত মাসের বিলসহ নেয়া হলে তখন তাদেরকে অফিস থেকে বলা হয় করোনা ভাইরাসের কারণে মিটারের কাছে না গিয়ে দূর থেকে রিড়িং নেয়ার কারনে ভুল হতে পারে। এবং তাদেরকে বলা হয়েছে আপনারা বিলের রিড়িংটা নিয়ে আসলে ঠিক করে দেয়া হবে। কিন্তু আসল বিষয়টা সেটা নয় সত্যিকার বিষয় হচ্ছে যিনি মিটার রিড়িং নেন সে ব্যক্তি ডোর টু ডোর না গিয়ে ঘরে বসে বিল করাতে এ ধরনের ভুতড়ে বিলের সৃষ্টি গত দু মাসের সাথে কোন রকমের সামঞ্জস্য নাই গ্রামের সাধারণ মানুষকে এ ভাবে ধোঁকা দেয়ার কোন মানে থাকতে পারেনা। যোগাযোগ করলে অফিস থেকে তাদেরকে বলেন, “বর্তমান বিদ্যুৎ বিল কাগজে আমার ঘরের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ করা হয়েছে।বর্তমানে কামাই রোজগার না থাকায় এখন আমি কি দিয়ে এ বিল পরিশোধ করবো জানিনা”।উত্তর আমবাডিয়া এবং মীরসরাইয়ের প্রায় অঞ্চলে একই অবস্হা। অফিস, বাড়ীঘর সব জাগায় একই অবস্হা। তারা বলেন, “চলমান মাসে আমার আবাসিক বাড়ির বিদ্যুৎ বিল রিডিং না দেখে অতিরিক্ত চারশত টাকা ধরা হয়েছে, যা অন্য মাসের তুলনায় দ্বিগুণ। পৌর সভার ০৪ নং ওয়াডের ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, এখন লকডাউনে আমার দোকান বন্দ্ব থাকার পরও ৯০০ টাকার মতো বিল এসেছে দোকান খোলা থাকা অবস্হায় সে বিল আসতো ১২০০ টাকা এখন আমরা কর্মহীন। “অনুমান ভিত্তিক আমার বাসা-বাড়ির বিল অন্য মাসের তুলনায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে। যা চরম অনিয়মের শামিল।” এভাবে হাজার হাজার গ্রাহকের অভিযোগ। প্রশাসনের আশু দৃষ্টি কামনা করছি। লকডাউনে ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার গ্রাহকেরা। এপ্রিল মাসে গড় হিসেবে বিল হওয়ার কারণে প্রায় দ্বিগুণ অংকে বিলের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সমস্যা সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে হাটহাজারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণের বিভাগের বিরুদ্ধে। গ্রাহকরা বলেছেন, সারাবছরই বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিড়ম্বনায় থাকি। এখন দেওয়া হচ্ছে লকডাউনে সব বন্ধ থাকার দোহাই। তারা বলেন, হাটহাজারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের বিলের কপি বিতরণ ও মিটার রিড করার জন্য যথেষ্ট লোকবল থাকার পরও অফিসে বসে তারা মনগড়া বিল তৈরি করে। লকডাউন না থাকলেও এসব মিটার রিডারদের বছরে ১-২ বারের বেশি দেখা যায় না। গ্রাহকরা মিটার রিডিং দেখে বিল দিতে অনুরোধ করলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়। তারা আরও জানান, এছাড়া মিটার রিডারের সাথে প্রতিটি এলাকায় দালাল থাকে। তারা মূলত মিটার পরিবর্তন, বিল কমানোসহ নানা কাজে তদবিরে ব্যস্ত থাকে। অদক্ষ জনবল দিয়ে বিলের কপি বিতরণ ও মিটার রিডারের কাজ করাচ্ছে বিদ্যুৎ অফিস। সার্বিক অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার গ্রাহক। লালিয়ার হাট এলাকার আশরাফ উদ্দিন সুজন, সাজ্জাদ ও চৌধুরী হাটের তোয়াহা ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক জানান, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে অফিসে বিলের ফটোকপি জমা দিয়ে যেতে বলা হলেও কোন সুরাহা পাইনি। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করেছি। বিল নিয়ে তাদের দপ্তরে গেলেও নানা হয়রানি করে। এদিকে একাধিক গ্রাহক বলেছেন, গত ৩-৪ মাস মিটার রিডিং না দেখেই অফিসে বসে তারা বিল বানায়। কোন কোন এলাকায় ৬-৮ মাসেও মিটার রিড করা হয় না। বিলের কপি নিয়ে সংশোধন করতে গেলে কেউ কথা বলতে চান না। একজন আরেকজনকে দেখিয়ে দেন। কাল আসেন বলে সময়ক্ষেপণ করেন। জানতে চাইলে হাটহাজারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবদুল কাদের বলেন, গ্রাহকের অতিরিক্ত বিলের সমস্যা নিয়ে আসলে ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। করোনার কারণে মিটার রিডারদের অনেক এলাকায় ঢুকতে দেয়নি। তাই আগের মাসের রিডিং দেখে বিল করেছি। তাই বিল একটু কমবেশি হতে পারে। এটি আমরা পরবর্তী মাসে এডজাস্ট করে দেব। তবে তিনি বিলের কপি নিয়ে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী হয়রানির বিষয়টি অস্বীকার করেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।