রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ, ভোগান্তিতে পথচারি ও এলাকাবাসী

রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ, ভোগান্তিতে পথচারি ও এলাকাবাসী

দৈনিক আজকালের দর্পণ:  রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা বর্তমানে যেনো একটি সাধারণ ব্যাপার। যে যার ইচ্ছামতো ফুটপাত ও রাস্তা দখল করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তা বা ফুটপাতের উপরে বিভিন্ন দোকান বসানো হয়, আবার বাড়ির নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয় রাস্তা দখল করে। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তার উপরেই নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত, সিমেন্ট, বালু, ইট, পাথর এমনকি রড সোজা করা সহ সিমেন্ট-বালু মাখানোর কাজও করা হয়। এতে যেমন পথচারীদের হাঁটায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গাড়ি চালকসহ এলাকাবাসীদের।

সিটি কর্পোরেশন বহুবার রাস্তা, ফুটপাতের উপর দোকান ও অবৈধ্য স্থাপনা সরানোর জন্য অভিযান পরিচালনা করলেও ফলাফল যেন শূন্যই থেকে গেছে। আর এই শূন্য থাকার পেছনেও রয়েছে কিছু কারণও। বড় কারণ প্রভাবশালীদের প্রভাব। কেননা, তারাই টাকার বিনিময়ে ফুটপাতে হকার বসার সুযোগ করে দেন। কিন্তু, যারা আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন বানায়, তারা নিজেরাই প্রভাবশালী। তাই রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখতে তাদের কারো কাছে জিজ্ঞাস করতে হয় না। বরং কেউ কিছু বলতে গেলে নিজেরাই বিপদে পরেন। ফলে এই ধরনের দখলের সংখ্যাও প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
ঠিক এমনটিই ঘটছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ২৮নং ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন এলাকায়। এই ওয়ার্ডের সবথেকে বেশি ব্যস্ততম রাস্তা তালাইমারী, কাজলা, অক্ট্রয়মোড়, বিনোদপুর বাজার, আমজাদের মোড়, জাহাজঘাট সহ বিভিন্ন প্রধান সড়কগুলো। এসব ব্যস্ততম রাস্তার ওপর ইটের খোয়া, পাথর ও বালু রেখে ভবন নির্মাণ করায় প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় পথচারী, সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অক্ট্রয়মোড় হতে কাজলা সুইটের মোড়, ধরমপুর হতে আমজাদের মোড়, আলমের মোড়, তালাইমারী হতে চার রাস্তার মোড়, কাজলা মোড় হতে ঘোষপাড়া, জাহাজঘাট, সুরাফানের মোড়, চার রাস্তার মোড় এসকল রাস্তা যেন দেখার কেউ নেই। ব্যস্ততম এই রাস্তায় হচ্ছে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ। দখল করে আছে রাস্তার বেশির ভাগ অংশই। প্রতিনিয়তই চলাচল করছে ইট-পাথর ও বালির ট্রাক। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে অন্য পথচারীদের চলাচল। গাড়ির কালো ধোয়া ও বালুতে অতিষ্ঠ পুরো ওর্য়াডবাসী। এছাড়াও গাড়ি আনলোড হওয়ার সময় পথচারি বা অন্য যানবাহন চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অপেক্ষা করতে হয় গাড়ী আনলোড না হওয়া পর্যন্ত।
এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ভবনের মালিকরা ইট, বালু, পাথর ও রড এনে ব্যস্ততম রাস্তার ওপর ফেলে রাখেন। এমনতেই এলাকার রাস্তা সবসময় ব্যস্ত থাকেই তার ওপরে মার্কেট ও ভবন নির্মাণ কাজে অবৈধ্যভাবে রাস্তা ব্যবহার করায় আমরা আজ চরম ভোগান্তিতে। নির্মাণ কাজ যতদিন শেষ না হবে ততদিন এই দুর্ভোগ সকলকে পৌহাতে হবে।
এলাকাবাসী বলেন, এলাকার রাস্তাগুলোর এমনিতেই বেহাল অবস্থা। আবার রাস্তার ওপর যদি নির্মাণ কাজ করা হয় তাহলে এসব রাস্তা বেশিদিন ভালো থাকবে না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চিরকাল। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নজরদারির অভাবে মার্কেট ও ভবন নির্মাণের সময় মালিকরা রাস্তার সামনে কোনো জায়গা না ছেড়ে আবার কোনো কোনো এলাকায় রাস্তার জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করার কারণে জনগণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কয়েকজন পথচারী বলেন, রাস্তার ওপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় আমরা চরম দুর্ভোগের শিকার হলেও রহস্যজনক কারণে এসব বিষয়ে নীরব থাকছে কাউন্সিলর সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শহরে যানজনট এখন এমনিতেই অনেক বেশি তার ওপর রান্তা বন্ধ করে কাজ করায় যানজট আরো বাড়ছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চু বলেন, রাস্তার ওপর নির্মাণ সামগ্রী ইট, খোয়া ও বালু রেখে পথচারীদের চলাচলে যেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা হয় সেজন্য আমরা ভবন মালিককে মুঠোফোনে অবহতি করে থাকি। আমরা অনেক ভবণ মালিককে নোটিশ করেছি যেন তারা রাস্তায় কাজ না করে। এর পরেও অনেকে নির্মাণ কাজ করছে। এতে পথচারীরা নিরাপদ চলাচলের জন্যে ফুটপাত বা রাস্তা ব্যবহার করতে পারছেন না। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন থেকেও রাস্তা ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের অনেকেই ভাড়া নেই আবার কেউ কেউ অবৈধ্যভাবেই রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ করছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন বলেন, “সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া ফুটপাত বা রাস্তা দখল করে কোনো কিছু রাখা একটি দন্ডীয় অপরাধ ও বেআইনী। অথচ এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে এটি অহরহ দেখা যাচ্ছে।” করপোরেশন থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অনেককে জরিমানা করা হয় বলে জানান তিনি। এছাড়াও সিটি করপোরেশন এক দিন থেকে সর্বোচ্চ পনের দিন ও একশত পঞ্চাশ ফিট পর্যন্ত সড়ক ভাড়া দিয়ে থাকেন বলেও জানান তিনি।
শর্টলিংকঃ