সীতাকুন্ডে স্বামীর ঘরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু ঘাতকরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে

দৈনিক আজকালের দর্পন: সীতাকুন্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিয়ের মাত্র ৭ মাসের অতিবাহিত হতে না হতেই অবশেষে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ব্যাপাক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, গত ১০ অক্টোবর সীতাকুন্ড উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের প্রেমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সূত্রে জানা যায় যে, দীর্ঘ ৭ মাস পূর্বে সীতাকুন্ড এলাকার সজল দেবনাথ’র সাথে চট্টগ্রাম জেলার মীরসারইর এর জোরারগঞ্জ থানাধীন জহর লাল দেবনাথের বাক্ প্রতিবন্ধী কন্যা মিতা দেবী (২১) এর সাথে সজল দেবনাথ এর সামাজিক ও পারিবারিকতার মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের মাত্র কয়েক মাস যেতেই না যেতেই স্বামীর সংসার হয়ে উঠে তার জন্য বিষের অনল। প্রতিনিয়ত চলতে থাকে তার উপর অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতন। মাত্র কয়েক দিন আগের ঘটনা ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মিতা তার স্বামীর বাড়ী থেকে বাবার বাড়ী মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন মহাজন হাট বাজার সংলগ্ন ধুম গ্রামের নিজ বাড়ীতে বেড়াতে আসেন। পূজা শেষে স্বামীর বাড়ী যাওয়ার কথা থাকলেও মিতা স্বামীর বাড়ীতে যেতে মা বাবাকে অপরাগতা প্রকাশ করেন। অবশেষে অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে মিতাকে পাঠানো হত তার স্বামী সজল দেবনাথের বাড়ীতে। সজল দেবনাথ এর বসবাসরত সীতাকুন্ড উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের লিটন বৈদ্য’র ভাড়া বাসায়। নিহত মিতা দেবীর পরিবারের থেকে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ২১ অক্টোবর ২০১৯ ইং সোমবার মিতা দেবীর বাবা জহর লাল দেবনাথের নিকট ফোনে জানানো হয় আপনার মেয়ে অসু’ হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত আসামীদের মধ্য থেকে জনৈক মিতার বাবাকে ফোন করা জানানো হয় আপনার মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আতহত্যা করেছে। ঘটনার বিষয়ব‘ বুঝে উঠতে পেরে তাক্ষনিক মিতার পরিবারেরর পক্ষ থেকে ৯৯৯ ফোন করে বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সং’াকে অবগত করা হলে সীতাকুন্ড থানায় দায়িত্বরত পুলিশ ঘটনালে ছুটে যান। এরপর’ানীয় পুলিশের সহযোগিতায় নিহত মিতা দেবীর নিথর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ’ানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘরের দরজা ভেঙ্গে গলায় কাপড় ফেঁছানো অব’ায় মিতার লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক অব’ায় ’ানীয় মর্ডান হসপিটালে নিয়ে আসা হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মিতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে নিহত মিতার লাশটি ময়নাতন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের পূর্বে নিহত মিতার মা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের দাগ ও আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে লিখিত এজাহারের অভিযোগে জানা যায়। এজারের ভিত্তিতে আরো জানা যায় যে, ঘটনা’লে পুলিশ পৌঁছানোর পূর্বেই ঘাতক পরিবারের ৫ সদস্য ঘরটি তালাবদ্ধ করে অন্যত্রে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই খোকন চন্দ্র দেবনাথ সাংবাদিকদের ও ফেসবুকে বিভিন্ন পোষ্টের মাধ্যমে নিহতের বোনের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অপরদিকে বাক্ প্রতিবন্ধী স্ত্রী মিতার রহস্যজনক মৃত্যুকে আতœহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চালা”েছন ঘাতক স্বামীর পরিবার। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা জহর লাল দেবনাথ সীতাকুন্ড থানায় ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়। সর্বশেষ সংবাদে জানা যায় যে, বাক্ প্রতিবন্ধী স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকে স্বামী সজল দেবনাথ ও তার পরিবারের সদস্য অন্যত্রে গাঁ ঢাকা দিয়েছে। অন্যদিকে সীতাকুন্ড মডেল থানার মামলার আইএ সুমন বণিক দৈনিক আজকালের দর্পনকে জানান; মানসিক চাপের কারণে এ গৃহবধু আতœহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হ”েছ। গৃহবধুর লাশটি সুরতহাল রিপোর্টের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা শেষে সীতাকুন্ডের পারিবারিক শ্মশানে তার শেষ কার্যক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।