স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিএমপি কমিশনারের নির্দেশ অমান্য করে চট্টগ্রামের বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গায় আজও চলছে জুয়ার আসরে মাদকের রমারমা বাণিজ্য (ভিডিও)

দৈনিক আজকালের দর্পণ ডেস্ক :  সারা বাংলাদেশে ক্যাসিনো ব্যবসার মতো জুয়া খেলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী হাইকোর্টের রীট আবেদনের মাধ্যমে দেশব্যাপী জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায়ের সেই নিদের্শকে অমান্য করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রশাসনের সাথে মাসিক মোটা অংকের চুক্তির বিনিময়ে চট্টগ্রামের ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা-বাড়ীতে কোথাও প্রকাশ্যে দিবালোকে আবার কোথাও পর্দার আড়ালে প্রশাসনকে মাসিক অগ্রিম মাশুয়ারা দিয়ে এ জুয়ার আসর চালু করা হয়েছে বলে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে মোঃ খেলু আহম্মদ এম এ হেলাল খাঁন (৩৮), পিতাঃ এম.এ জমাদ্দার খাঁন, মাতাঃ  মোছা: আরিফা খানম, সাং- ঢালি মহল্লা, ডাকঘর- যাত্রাপাশা, ৩নং ইউনিয়ন, থানাঃ বানিয়াচুন, জেলাঃ হবিগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা: কার্টুন ফ্যাক্টরী, কলসী দিঘীর পাড়, ৩৮নং ওয়ার্ড, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, পোঃ বন্দর-৪১০০, চট্টগ্রাম পোর্ট, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, থানা- বন্দর, জেলা- চট্টগ্রাম, ধর্মঃ ইসলাম, পেশাঃ চাকুরী, বয়স: ৩৮ বৎসর, জাতীয়তা জন্মসূত্রে বাংলাদেশী- নামক ব্যক্তিটি  (মোবা: ০১৭৮১৩৫২৩৮০) এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি বরং, তিনি উক্ত জুয়াড়ীরা তাকে বার বার প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় মোঃ খেলু আহম্মদ এম এ হেলাল খাঁন-কে উক্ত জুয়াড়ী সন্ত্রাসীরা ঘর থেকে বের করে রাস্তায় মারাতœক ভাবে মারধর করে জখম করে আহত করে। পরবর্তীতে মোঃ খেলু আহম্মদ এম এ হেলাল খাঁন তাদের এ অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য  র‌্যাব৭ বরাবরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি তিনি অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক জানা যায় যে, ইপিজেডস্থ বন্দর থানার কলসী দিঘীর পাড়ে এমাদুল ও আলামিনের জুয়ার ঘর থেকে প্রতি মাসে থানার ক্যাশিয়ার সুলতানকে তিন লক্ষ টাকার মতো মাশুয়ারা প্রদান করেন বলে জানান। মোঃ খেলু আহম্মদ এম এ হেলাল খাঁন এর অভিযোগে জানানো হয়। অন্যদিকে বন্দর থানাধীন এছাক ডিপো ব্রীজের নিচের জুয়াড়ী সেলিম বন্দর থানাকে মাসিক মাশুয়ারা হিসাবে ২ লক্ষ টাকা উৎকোচের মাধ্যমে প্রকাশ্যে জুয়ার ঘর চালিয়ে যাচ্ছে।  এ বিষয়ে সেলিম আরো বলেন, বেশী বাড়াবাড়ি করলে অতীতের এক সাংবাদিকের মতো ২৫০শ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে সাংবাদিককেও জেল হাজতে ঢুকিয়ে দিবো! তিনি বলেন, প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ  কর্মকর্তা আমার মামা হন। কোন সাংবাদিক…….আমার ইয়েও…… চিড়তে পারবে না। বলে এ ধরনের অশালীন মন্তব্য করেন। তাহলে ¯’স্থানীয় প্রশাসন, মাননীয় পুলিশ কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিকট আমাদের প্রশ্ন? যেখানে দেশব্যাপী জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও আলামিন, এমাদুল, সেলিম এর মতো জুয়াড়ীদের কোন প্রশাসনের মদদে এখনও প্রকাশ্যে জুয়া খেলার আসর বহাল রেখেছে বিষয়টি কি খতিয়ে দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে না? অন্যদিকে ¯’স্থানীয় এক সাংবাদিক সিএমপি পুলিশ কমিশনার বরাবরে জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে জুয়া খেলা বন্ধের দাবীতে আবেদন করলে মাননীয় সিএমপি কমিশনার, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি গুলোকে জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বন্দর, পতেঙ্গা, সিইপিজেড উক্ত তিন থানার আনাচে কানাচে প্রকাশ্যে পর্দার অন্তরালে জুয়াড়ীদের জুয়া খেলার আসর বসিয়ে এর প্রার্দুভাব এখনো বন্ধ হয়নি বলে জানা যায়।

সরেজমিনে এ প্রতিবেদন তৈরীকালে দেখা যায় যে, চট্টগ্রামের ইপিজেড থানাধীন কলসী দিঘীর পাড় ও সরকারী আজিজিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেই চাদর দিয়ে ডেকে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা চালাচ্ছে  স্থানীয় যুবলীগের নেতা নামধারী মোঃ আল আমিন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় যে, আল আমিন তার দলবল নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিরোধকারীদের প্রতিহত করতে এক গুচ্ছ লাঠি ঘটনাস্থলে মজবুত রেখেছে। আল আমিন জানান, তার জুয়ার ব্যবসায় যে বাঁধা দিবে তাকে লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে তার হাড়গোড় ভেঙ্গে দেয়া হবে।

এদিকে উক্ত অভিযুক্ত আল আমিন নিজেকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বলে দাবী করলেও যুবলীগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দৈনিক আজকালের দর্পনকে বলেন; আল আমিন নামক কথিত কোন জুয়াড়ী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও যুবলীগে কোথাও অর্ন্তভুক্ত নেই। জুয়ার ব্যবসার আড়ালে সেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অপকর্ম করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর ৩৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন; আমি জুয়া খেলার বিষয়ে ঘটনাটি এখনো জানতে পারিনি। আর যদি সে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধী কর্মকান্ডের সাথে থাকে তাহলে নিশ্চিত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি সক্রিয় রয়েছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি অবগত করে চট্টগ্রাম সিএমপি পুলিশ কমিশনার বরাবরে স্থানীয়রা অভিযোগ জানিয়ে জুয়াড়ী আল আমিনের বিরুদ্ধে জুয়ার ঘরটি বন্ধ করে এলাকার যুব সমাজকে রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে একই থানাধীন আকমল আলী রোড পকেট গেইট ও রেললাইন এলাকায় রিক্সার গ্যারেজের পিছনে বিশাল আকৃতির ভবন ভাড়া নিয়ে জনৈক মোহাম্মদ আলী নামক এক ব্যক্তি তাও প্রশাসনের সাথে সুসম্পর্ক রেখে মোটা অংকের মাসিক অগ্রিম মাশুয়ারা দিয়ে এসব রমারমা জুয়ার আসর খুলে বসেছে।

অথচ স্থানীয় সিইপিজেড ও পতেঙ্গা থানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরব ভূমিকা পালন করছেন বলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের স্থানীয় ৩৯নং ওয়ার্ডের সম্মানিত সদস্য আলমগীর হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিদের্শ অমান্য করে চট্টগ্রামের সিইপিজেড-পতেঙ্গা এলকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে আবারো প্রশাসনের দৌড়গোড়ায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড জুয়ার খুলে বসেছে। সব কিছু জেনেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এতোসব অভিযোগের পরও নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইপিজেড থানা এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি বাসা বাড়ীতে এ ধরনের জুয়ার আসর খুলে বাণিজ্য চালানোর মতো গুরুত্বর অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে মধ্যে বন্দরটিলা নয়ারহাট তক্তারপুল এলাকায়ও মোহাম্মদ সুমন নামক এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে জুয়ার আসল খুলে এলাকার যুব সমাজকে জুয়ার আসরে বসিয়ে তাদের ভবিষ্যত ধ্বংসের মাঠে নেমেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ৩৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী জিয়াউল সুমনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষনিক উক্ত জুয়াড়ীদের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেন। অন্যদিকে একই থানার পাশাপাশি বন্দর থানার ধুমপাড়া সাগর পাড় এলাকার মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ নামক এক ব্যক্তি সেখানেও জুয়ার আসর খুলে দিব্যি রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ও অভিজ্ঞ মহলের ধারনা, যেখানে দেশব্যাপী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জুয়া তথা ক্যাসিনোর মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হলেও কোন অপরাধী প্রশাসনিক কর্মকর্তার অবৈধ ক্ষমতার প্রভাবে আল আমিনদের মতো জুয়াড়ীরা প্রশাসনের সাথে অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে এসব অপরাধমূলক জুয়ার আসর বসিয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নিদের্শকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এসব অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে? নাকি নির্দেশ দাতা ঐ সব প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চেয়ারে এখনও বিএনপি জামাতের ঘেঁষা প্রদীপদের আশ্রয় প্রশ্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়গুলো মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, মাননীয় আইজিপি, মাননীয় ডিআইজি, সিএমপি পুলিশ কমিশনার, র‌্যাব-৭ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এসবি, গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি- এ সমস্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখলে চট্টগ্রামের ইপিজেড পতেঙ্গায় আর কোন প্রদীপের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

এমনকি এলাকার ভুক্তভোগী স্থানীয় অভিভাবক ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জোর দাবী অতিশয় এ সমস্ত অসামাজিক অবৈধ জুয়ার ব্যবসা বন্ধ করে স্থানীয় এলাকাবাসীকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে সহায়তা প্রদান করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন। জানা যায় যে, এ আল আমিনের সাথে ঢাকার জুয়ার কিং জিকে শামীমের সাথেও সুম্পর্ক রয়েছে। শুধু তাই নয়, জুয়ার পাশাপাশি নারীদের অবৈধ দেহ ব্যবসা ছিল তার মূল জুয়ার আসরের একাংশ। জুয়ার ঘরের পাশেই মাদকের স্বর্গরাজ্য ও নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসার চিত্র। আরো জানা যায় , এ সমস্ত জিকে শামীমরা ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামে তাদের অবৈধ প্রভাব বিস্তার করতে চলেছে প্রশাসনের এক শ্রেণির দুনীতিবাজ কমকতাদের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে।

এরা চট্টগ্রামে এসে দীঘদিন যাবৎ তথা সিইপিজেড, রেলবিট এলাকা, আকমল আলী রোড পকেট গেইট, পতেঙ্গা  থানাধীন বেরিবাঁধ এলাকা, পতেঙ্গা থানার মোজাফফর বিল্ডিং এ প্রশাসনের নাকের ঢডায় একে একে চারটি নারী দেহ ব্যবসার ঘর জন্ম নিয়েছে। দিবালোকে চলছে এ সমস্ত অসামাজিক জুয়ার আসর ও নারীদের নিয়ে রমরমা নারী দেহ ব্যবসা এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। আর এ সমস্ত অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে সামাজিক আইন শৃঙ্খলার চরম অবণতি ঘটছে বলে স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের ধারনা এত কিছু জানা স্বত্বেও কেন অপরাধীরা প্রশাসনের সামনেই বেপরোয়া? জানতে চায় দেশবাসী!!!

শর্টলিংকঃ