বিশেষ প্রতিনিধি:
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ইপিজেডে খোলা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রয় করা হচ্ছে মরা ও পচা মুরগি। ঘটনার বিবরণে সরজমিনে দেখা যায় যে চট্টগ্রামের ইপিজেড অস্থ চৌধুরী মার্কেটের বিপরীতে ফুটওভার ব্রিজ সংলগ্ন কাঁচা বাজারে দীর্ঘদিন যাবত অসাধু ব্যবসায়ী. গাইবান্ধার আশিক বড়–য়া চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় মুরগির ফার্মে মরে যাওয়া মুরগি সংগ্রহ করে সেই মুরগি আবার নতুন করে কেটে ছেড়ে পরিষ্কার করে স্বল্প আয়ের গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা করে কেজি প্রতি মরা মুরগি বিক্রয় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুর্নীতিবাজ গাইবান্ধার ব্যবসায়ী আশিক বড়–য়াকে মরা মুরগি কেটে ছিঁড়ে ড্রেসিং করার সময় হাতে নাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ কালে আজকালের দর্পণের ক্যামেরাবন্দি হলে তিনি তার সত্যতা স্বীকার করেন এবং তিনি বলেন আমি এই মরা পচা মুরগি কেবলমাত্র বডুয়াদের কাছে বিক্রয় করি।অভিযোগ এসেছে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী আশিক বড়–য়া প্রতিদিন তার নির্ধারিত ব্যক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন মুরগির ফার্মে মরে যাওয়া মুরগিগুলো ৪০ টাকা কেজিতে ক্রয় করে পরবর্তীতে সে মুরগিগুলো তার লোক দিয়ে প্রয় পরিষ্কার করে সেই মরা মুরগি গুলো হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম সর্বসাধারণের মাঝে লোকাচক্ষুর আড়ালে এ সব মরা মুরগি বিক্রয় করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী আশিক বড়–য়ার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। মরা মুরগির ড্রেসিং করার সময় তার গোডাউনে দেখা যায় ৪টি ডিপ ফ্রিজে মরা মুরগি ভর্তি করে রাখা হয়েছে। এবং তার কাঁচাবাজারের দোকানেও ফ্রিজে রয়েছে মরা মুরগি মজবুত করা ফ্রিজে রাখা মরা মুরগি গুলো চট্টগ্রামের ইপিজেডের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় পাইকারি মূলে বিক্রয় করে সর্বসাধারণকে খাওয়ানো হচ্ছে মরা ও পচা মুরগি। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যবসায়ী আশিক বড়–য়া চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত এ অনৈতিক ব্যবসা—বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ক্রেতা আবদুল খালেক অভিযোগ করেন, আমি উক্ত দোকান থেকে সম্প্রতি মুরগীর মাংস কিনে নিয়ে বাসায় নিয়ে রান্না করে খাওয়ার পর পরিবারের সবাই গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। গার্মেন্টস্ কমীর্ নাহিদা আক্তার সেও একই অভিযোগ করে বলেন, গত মাসের ৩ তারিখে আমি উক্ত বড়–য়া বাবুর দোকান থেকে মুরগীর মাংস কিনে নিয়ে বাসায় গেলে তা খেয়ে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি ও রান্নার সময় দুর্গন্ধ মনে হয়। অপরদিকে, আনন্দবাজারের সীমা রাণী আজকালের দর্পণকে অভিযোগ করেন বলেন, আমি উক্ত বড়–য়া বাবুর দোকান থেকে বেতন পেয়ে প্রায় সময় মুরগীর মাংস ও কলিজা কিনে নিয়ে রান্না করে ছেলেমেয়েদের খাওয়ানোর পর তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো বা প্রাকৃতিক কারণে ডায়রিয়া হচ্ছে। মুলত, উক্ত বড়–য়া বাবুর দোকানে যে মরা মৃত মুরগী কিনে নিয়ে রান্না করেন ক্রেতাদের খাওয়া তা শুনে অবাক হয়েছি। এদিকে ভুক্তভোগীরা বলেন, চট্টগ্রামের আদালত ভবন এলাকায় ভোক্তা অধিকারের অফিস থাকা স্বত্বেও উক্ত অফিসের ভেজাল বিরোধী কোন অভিযান না থাকার কারণে অভিযুক্ত মরা মুরগী ব্যবসায়ী আশিক বড়–য়া আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রশাসনের চোখের সামনে নিজের ইচ্ছায় মরা ও পঁচা মুরগী বিক্রয় করে সমাজটাকে দুষিত করে তুলেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ভোক্তারা জরুরী ভিত্তিতে দুনীর্তিবাজ ব্যবসায়ী আশিক বড়–য়া বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকতার্সহ স্থানীয়দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সচেতন অভিজ্ঞ মহল ও চিকিৎসগণ জানান, মৃত বা মরা মুরগি বিক্রি করা আইনত ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুতর প্রতারণা এবং জনস্বাস্থ্যবিরোধী অপরাধ এটি নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ, যার ফলে জরিমানা, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মরা মুরগির গোশত হারাম বা নিষেধ,. মরা মুরগিতে বিষাক্ত কার্বন ডাই—অক্সাইড ও রক্ত জমে থাকে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মানুষকে সুস্থ মুরগির পরিবর্তে মরা মুরগির মাংস খাইয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে, যা ফৌজদারি অপরাধ। মরা মুরগির মাংস সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এবং এটি কেনা—বেচা থেকে বিরত থাকা উচিত।
অভিযানের ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকতে ক্লিক করুন::
https://www.facebook.com/watch/?v=1684818799188485