…
আজকালের দর্পণ :
সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত একটি সংবাদের প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হল, অডিট আপত্তি এবং দুর্নীতি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যে কোনো দপ্তরেই অডিট আপত্তি ঘটতে পারে। সেটা যথাযথ প্রক্রিয়ায়র মাধ্যমে নিষ্পত্তিও হয়ে থাকে। কিন্তু একটি অনিষ্পন্ন আপত্তি নিয়ে যেভাবে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যমুনা টেলিভিশনে রিপোর্ট প্রচারিত হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক এবং আপত্তিকর ও বটে।যমুনা টেলিভিশন দীর্ঘদিন যাবত বহুল প্রচারিত এবং জনপ্রিয় একটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেল। এহেন একটি চ্যানেলে যথাযথ তদন্ত এবং তথ্য উপাত্ত ব্যতিরেকে মিথ্যা এবং বানোয়াট একটি সংবাদ প্রচার চরম আপত্তিজনক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর বলে বাংলাদেশ রেলওয়ে মনে করেন ।এহেন মিথ্যা বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর এবং আপত্তিকর সংবাদ প্রচারে যমুনা টেলিভিশনের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হতে বাধ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রচারে সতর্ক থাকা একান্তভাবে কাম্য এবং বাঞ্ছনীয়। তবে
এই বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মৃত আব্দুর রশিদ এর পুত্র মোঃআলী বাদল অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মচারী সন্তান , চট্টগ্রাম তিনি বলেন প্রকৃত সত্য ঘটনা যাচাই বাছাই করে সঠিক একটি সংবাদ তুলে ধরা যেকোনো মিডিয়ার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করেন তিনি।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অডিট আপত্তিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও আলোচনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হিসাব নিরীক্ষার অংশ হিসেবে অডিট আপত্তি ওঠা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোনো অডিট আপত্তি উত্থাপিত হওয়া মাত্রই সেটিকে চূড়ান্ত দুর্নীতি বা অনিয়ম হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে আপত্তি নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের চুক্তিটি ছিল ঊচঈ ঞঁৎহশবু ও খঁসঢ় ঝঁস ঈড়হঃৎধপঃ, যা এ২এ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। চুক্তির ধরন, শর্ত ও কারিগরি বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু অডিট আপত্তি উত্থাপিত হলেও এর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অবশিষ্ট আপত্তিগুলোও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির যে আলোচনা সামনে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর উল্লেখযোগ্য অংশ এখন আর বহাল নেই বা আইনসিদ্ধ আপত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো নয়। ফলে অডিট আপত্তির মোট অঙ্ককে সরাসরি দুর্নীতির অঙ্ক হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে।
প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কাজের গুণগত মান ও পরিমাণ যাচাই এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নের পর বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে হিসাব বিভাগের ভেটিংসহ নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিল সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ গণমাধ্যমে বারবার ব্যক্তিগতভাবে একজন কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ কাজ করছে কি না।
রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের দাবি, বর্তমান মহাপরিচালককে সরিয়ে নিজেদের পছন্দের কাউকে ওই পদে বসানোর লক্ষ্যে একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তবে এ ধরনের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, অডিট আপত্তি থাকাই যদি কোনো কর্মকর্তাকে দুর্নীতিবাজ বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার একমাত্র মানদণ্ড হয়, তাহলে যেসব কর্মকর্তার নামেও অডিট আপত্তি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও কি একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে না?
অতএব, অডিট আপত্তিকে কেন্দ্র করে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার পরিবর্তে প্রতিটি আপত্তির প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, জবাব এবং নিষ্পত্তির বর্তমান অবস্থা যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত অনিয়ম থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি অমীমাংসিত বা প্রাথমিক অডিট আপত্তিকে চূড়ান্ত দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে প্রচার করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও প্রশাসনিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ বিষয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মৃত আব্দুর রশিদ এর পুত্র মোঃআলী বাদল অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মচারী সন্তান , চট্টগ্রাম তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আফজাল হোসেন একজন বাংলাদেশ রেলওয়ের নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে জড়িত থেকে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল কামনায় কাজ করে যাবেন।